নেত্রকোণার দুর্গাপুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডে যুবসমাজকে মাদক ও ডিজিটাল ডিভাইসের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন আসন্ন নির্বাচনের কাউন্সিলর প্রার্থী ও তরুণ যুবনেতা আক্তারুজ্জামান আরিফ। গত বুধবার বিকেলে সুসং সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় তরুণ ও যুবকদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। মূলত ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি এবং অনলাইন গেমসহ ডিজিটাল স্ক্রিনের প্রতি তরুণ প্রজন্মের মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি রোধে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায় থেকে তৃণমূলের তরুণদের খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও গতিশীল সমাজ গঠনের যে বার্তা এখানে দেওয়া হয়েছে, তা বর্তমান আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ওয়ার্ডের যুবকদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির পাশাপাশি সামাজিক অবক্ষয় রোধের একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণকালে কাউন্সিলর প্রার্থী আক্তারুজ্জামান আরিফ উপস্থিত তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই এবং আজকের তরুণরাই আগামী দিনের রাষ্ট্র গড়ার মূল কারিগর। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ৩ নং ওয়ার্ডের তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য তিনি দীর্ঘসময় ধরে কাজ করে আসছেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো প্রয়োজনে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। মূলত ডিজিটাল আসক্তির কারণে মাঠের খেলার সংস্কৃতি যেভাবে হারিয়ে যাচ্ছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী অভিভাবক ও স্থানীয় যুবকদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে বিপথগামী হচ্ছে, তাতে আরিফের এই উদ্যোগ সাময়িক হলেও দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উপহার সামগ্রী পেয়ে স্থানীয় যুবকদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে এবং তারা মনে করছেন, নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত থাকলে মাদকের ছোবল থেকে তরুণদের রক্ষা করা সহজ হবে।
অনুষ্ঠানটিতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রতিভা কোচিং সেন্টারের পরিচালক মাসুম বিল্লাহ অভি এবং স্থানীয় ফুটবলার সুশান্ত প্রসাদসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলা হয়েছে যে, কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকে সমাজ পরিবর্তনের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তবে কেবল ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণই যথেষ্ট নয়, বরং এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নিয়মিত টুর্নামেন্ট আয়োজন এবং মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা দাবি জানিয়েছেন, মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের এমন সম্মিলিত প্রচেষ্টা যদি দুর্গাপুরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তবেই যুবসমাজকে পুরোপুরি সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, কাউন্সিলর প্রার্থীর এই ইতিবাচক পদক্ষেপটি অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের জন্যও একটি উদাহরণ হিসেবে কাজ করতে পারে।
পরিশেষে, দুর্গাপুরের যুবসমাজের অবক্ষয় রোধে এই ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ কেবল একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের যুগে যখন তরুণরা ভার্চুয়াল জগতে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন মাঠের খেলার গুরুত্ব পুনরুজ্জীবিত করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। আক্তারুজ্জামান আরিফের এই উদ্যোগ স্থানীয় তরুণদের মধ্যে যে আশার সঞ্চার করেছে, তা যদি নিয়মিত কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থায়িত্ব পায়, তবে অদূর ভবিষ্যতে দুর্গাপুরের যুবসমাজ মাদকের করাল গ্রাস থেকে বেরিয়ে এসে গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হবে। এই ধরনের কল্যাণমুখী উদ্যোগ পরিবহন ও স্থানীয় জনজীবনের ওপর যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা সামগ্রিকভাবে দুর্গাপুর পৌরসভার সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।