পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল স্থগিত রেখে পুনরায় সকল কেন্দ্রের ভোট গণনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু তাহের তালুকদার।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) উপজেলা প্রেস ক্লাব, পূর্বধলায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তার নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ মদদে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপি সংঘটিত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দেখানো হয়েছে ২,৫৬৭ ভোট। এছাড়া ৫,৩৬১ ভোট বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, উল্লেখিত অনিয়ম না হলে এই ব্যবধান কমে গিয়ে তার বিজয় নিশ্চিত হতো।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি যে অভিযোগগুলো তুলে ধরেন, তার মধ্যে রয়েছে—
ভোট গ্রহণ স্থগিত: মেঘশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-১০)-এ প্রিজাইডিং অফিসার বিকেল ৩টার দিকে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে বুথের বাইরে চলে যান। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেল ৪টা ২০ মিনিট থেকে স্বল্প সময়ের জন্য পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হয়।
পরিচয় যাচাই ছাড়া ব্যালট প্রদান: একই কেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের বিরুদ্ধে ভোটারদের আইডি যাচাই ছাড়াই ব্যালট সরবরাহের অভিযোগ তোলা হয়।
ফলাফল শিটে স্বাক্ষরে চাপ: আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-৭১)-এ ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই তার এজেন্টকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভোট গ্রহণে ধীরগতি: কাপাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-১৪)-এ পরিকল্পিতভাবে বুথ সংখ্যা কমিয়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি করা হয়, যার ফলে অনেক ভোটার ভোট না দিয়েই ফিরে যান বলে দাবি করা হয়।
নেতাকর্মীদের আটক ও আতঙ্ক সৃষ্টি: জারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলেমানকে কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০০ গজ দূরে আটক করে গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়, যা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
কেন্দ্রে সহিংসতা: বিভিন্ন কেন্দ্রে দলীয় ভোটারদের ওপর লাঠিচার্জ করে বের করে দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রদত্ত ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলের মধ্যে গরমিল রয়েছে। এমনকি গণভোটের মোট সংখ্যা মোট ভোটারের সংখ্যার চেয়েও বেশি দেখানো হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান এবং ফলাফল স্থগিত রেখে পুনরায় ভোট গণনার আহ্বান জানান। অন্যথায় আইনি ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Nenhum comentário encontrado



















