নাগেশ্বরী উপজেলায় একটি চলন্ত ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক ছেড়ে পাশের একটি বসতঘরে সজোরে ধাক্কা দিয়েছে। এতে ঘরটির একটি বড় অংশ ধসে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও অলৌকিকভাবে ও অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা একই পরিবারের সদস্যরা।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
শনিবার (২০ জুন) ভোররাতে উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের বিপরীত পাশে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার দিকে পণ্যবাহী একটি ট্রাক নাগেশ্বরী প্রধান সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ করেই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় তীব্র গতিতে থাকা ট্রাকটি সড়ক থেকে ছিটকে নিচে নেমে সরাসরি রাস্তার পাশের একটি টিনশেড বসতবাড়িতে গিয়ে আঘাত হানে। ট্রাকের ধাক্কায় ঘরটির সামনের অংশ ও দেয়াল দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার সময় ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে ঘরের ভেতরের বাসিন্দারা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। ট্রাকটি যে অংশে ধাক্কা দেয়, তার ঠিক পাশেই পরিবারের সদস্যরা ঘুমাচ্ছিলেন। বিকট শব্দে ঘরের একাংশ ভেঙে চুরমার হয়ে গেলেও সৌভাগ্যবশত পরিবারের কোনো সদস্যের গায়ে আঘাত লাগেনি।
ভোরের ওই বিকট শব্দে আশপাশের মানুষজন আতঙ্কে জেগে ওঠেন এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা ঘরটির ভেতর থেকে আতঙ্কিত ও অক্ষত অবস্থায় ঘুমন্ত পরিবারটিকে উদ্ধার করেন। তবে দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সহকারী কৌশলে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। তন্দ্রাচ্ছন্ন চোখে গাড়ি চালানো নাকি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এই দুর্ঘটনা—তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট আর্থিক পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, ঘরটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মহাসড়কের পাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দূরপাল্লার গাড়িগুলোর বেপরোয়া গতি ও চালকদের অসতর্কতাকে দায়ী করছেন তারা। সড়ক-মহাসড়কে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা এবং ট্রাফিক নজরদারি জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা
সংবাদটির ওপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন তৈরি করুন।