close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

‎মোংলা বন্দরে ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিং লক্ষ্যমাত্রা..

ম.ম.রবি ডাকুয়া avatar   
ম.ম.রবি ডাকুয়া
‎মোংলা প্রতিনিধিঃ

‎মোংলা বন্দরে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূম..

কারণ বন্দরটি আধুনিকীকরণ, ড্রেজিং ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠছে এবং আঞ্চলিক ট্রানজিট হাব হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে। এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনের জন্য ড্রেজিং, নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও ডিজিটালকরণের মতো বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি আনতে সাহায্য করবে।

‎রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অর্থনীতিতে আশার আলো জাগাচ্ছে মোংলা সমুদ্র বন্দর। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আর ভৌগোলিক গুরুত্বের কারণে দেশি-বিদেশি আমদানিকারকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই বন্দর।

‎লক্ষ্যমাত্রা: ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন পণ্য হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বন্দরটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতিফলন।

‎সক্ষমতা বৃদ্ধি: ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পশুর চ্যানেলের গভীরতা বৃদ্ধি, কন্টেইনার টার্মিনাল সম্প্রসারণ এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা যোগ করার কাজ চলছে, যা আরও বেশি জাহাজ ভেড়ার সুযোগ করে দেবে।

‎আঞ্চলিক কেন্দ্র: মোংলা বন্দর ভারত, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট এবং লজিস্টিকস হাব হিসেবে কাজ করছে।

‎আধুনিকীকরণ: বন্দরটিকে একটি 'স্মার্ট পোর্ট'-এ রূপান্তরিত করার প্রক্রিয়া চলছে, যার লক্ষ্য হবে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

‎আর্থিক অগ্রগতি: বিগত অর্থবছরে (২০২৪-২৫) মোংলা বন্দর রেকর্ড রাজস্ব আয় করেছে এবং মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

‎এই পদক্ষেপগুলো মোংলা বন্দরকে দেশের প্রধান বন্দরগুলোর একটিতে পরিণত করবে এবং জাতীয় বাণিজ্য ও আঞ্চলিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‎বন্দর সূত্র জানায়, অন্যান্য বন্দরের তুলনায় মোংলা দিয়ে পণ্য পরিবহনে খরচ কম। এছাড়া নৌ, সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহনের সহজ সুযোগ থাকায় চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই কন্টেইনারবাহীসহ সব ধরনের জাহাজের আগমন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এখন নিয়মিত এই বন্দর দিয়ে ইউরোপ ও আমেরিকায় রফতানি হচ্ছে।

‎বন্দর সূত্রে জানায়, সময়ের সাথে তাল মিরিয়ে ব্যাবসা বাণিজ্যের অপার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দেশি বিদেশি আমদানি রফতানিকারকদের নজর এখন মোংলা সমুদ্র বন্দরের দিকে। অন্যান্য বন্দরের তুলনায় মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে খরচ কম এবং নৌ, সড়ক ও রেল পথে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের শুরুতেই কন্টেইনারবাহী সহ সব ধরনের জাহাজের আগমন বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশ-বিদেশি পণ্য আমদানির পাশাপাশি দেশে তৈরি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাক, যন্ত্রপাতি মোংলা বন্দর দিয়ে রফতানি করা হচ্ছে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে।

‎চলতি অর্থ বছরের প্রথম ৬ মাসে মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য নিয়ে ৪৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ আগমন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি কন্টেইনার বাহী জাহাজে করে বিভিন্ন প্রকারের বিদেশি পণ্য আমদানি করা হয়েছে। যার পণ্য বোঝাই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বন্দর দিয়ে মোট ২১ হাজার ৪৫৬ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিলো, সেখানে চলতি বছরের ৬ মাসে ১৭ হাজার ৪০০ টিইউজ কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়। একই সাথে ৬ মাসে ১৬ টি জাহাজে আমদানি হয়েছে ৫ হাজার ২২২টি  জাপানি রিকিন্ডশন গাড়ী মোংলা বন্দর দিয়ে খালাস করা হয়েছে।

‎মোংলা সমুদ্র বন্দরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক শিল্পকারখানা, ইপিজেড এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, এতে সৃষ্টি হয়েছে অন্ত ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান। বন্দরে আমদানি-রফতানি বৃদ্ধি পাশাপাশি বৃদ্ধি পেয়েছে বন্দরের রাজস্ব আয়ও।

‎মোংলা বন্দরের উপ পরিচালক মো.মাকরুজ্জামান বলেন, মোংলা বন্দর এখন বহুমুখী উন্নয়নের কাজ চলছে। বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় উন্নয়ন, অগ্রগতি আর অর্থনৈতিক সম্ভানা নিয়ে কাজ করছে সরকার। বেশ কযেকটি বড় বড় মেঘা প্রকল্পের কাজ চলছে। প্রকল্পগুলো শেষ হলে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জহাজ বাড়বে, বাড়বে পণ্য আমদানি-রফতানির সংখ্যা, বৃদ্ধি পাবে রাজস্ব। যা থেকে দেশের অর্তনীতিতেও বড় অবধান রাখবে মোংলা সমুদ্র বন্দর।

No comments found


News Card Generator