মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের একটি ‘অন্তরঙ্গ ছবি’ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রকাশ করেছেন বলে যে দাবি উঠেছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলোর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ছবিটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে এবং ম্যাক্রোঁ তা কখনোই প্রকাশ করেননি।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যে ব্যক্তিগত ও কূটনৈতিক বাদানুবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১ এপ্রিল ট্রাম্প এক ভিডিও বার্তায় ম্যাক্রোঁ এবং তার স্ত্রীকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। এর পরদিনই ম্যাক্রোঁ পাল্টা জবাব দিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অমার্জিত’ বলে অভিহিত করেন। দুই নেতার এই তিক্ত সম্পর্ককে পুঁজি করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিভ্রান্তিকর ছবিটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ জেফরি এপস্টেইন মামলার যেসব নথিপত্র ও ছবি প্রকাশ করেছিল, সেখানে একটি ছবিতে এপস্টাইনকে জনৈক এক নারীর সাথে দেখা গিয়েছিল। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ সেই নারীর পরিচয় গোপন রাখতে ছবিটিতে মুখমণ্ডল ঢেকে দিয়েছিল। ‘টম অ্যাডেলসবাক’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সেই মূল ছবিতে মেলানিয়া ট্রাম্পের মুখ বসিয়ে ডিজিটাল কারসাজি করা হয়। পরবর্তীতে ওই অ্যাকাউন্ট থেকেও স্বীকার করা হয় যে ছবিটি এডিট করা হয়েছিল।
মিশরের একজন সাংবাদিক ফেসবুকে প্রথম দাবি করেন যে, ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পের ওপর প্রতিশোধ নিতে মেলানিয়ার এই ছবি প্রকাশ করেছেন। এই গুজবটি স্প্যানিশ ও আরবিভাষী সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্ট ৬০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। তবে ম্যাক্রোঁর কোনো দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এমন কোনো ছবি পোস্ট করার প্রমাণ মেলেনি।
ফ্রান্স ২৪ অবজর্ভারসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, মেলানিয়া ও এপস্টেইনের ভাইরাল হওয়া ছবিটি একটি জাল ছবি। মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটের ছবির সাথে ভাইরাল ছবির কোড মিলিয়ে দেখা গেছে, আসল ছবিতে মেলানিয়ার কোনো অস্তিত্ব নেই। কূটনৈতিক লড়াইকে ব্যক্তিগত কুৎসায় রূপ দেওয়ার হীন উদ্দেশ্যেই এই ডিজিটাল জালিয়াতি করা হয়েছে।



















