মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু; ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু; ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা..
মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু; ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা..
শুরুতে ইরান সরকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও, পরবর্তীকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। সংবাদ পাঠকালে উপস্থাপককে আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।..

ইরানের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও শোকাবহ অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। এক ভয়াবহ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ বিমান হামলার ফলে এই ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সংবাদের পর ইরান জুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

শনিবার দিবাগত রাতে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের অন্তত ২৪টি প্রদেশের বিভিন্ন শহরে একযোগে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। রোববার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রথম খামেনির মৃত্যুর দাবি করেন। শুরুতে ইরান সরকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও, পরবর্তীকালে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। সংবাদ পাঠকালে উপস্থাপককে আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বার্তায় খামেনিকে "ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই অভিযান কেবল আমেরিকার জন্য নয়, বরং খামেনির শাসনামলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সারা বিশ্বের মানুষের জন্য এক পরম ন্যায়বিচার। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেমের নজর এড়িয়ে পালানো খামেনির পক্ষে সম্ভব ছিল না। 

রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় ইরানের একটি বালিকা বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেখানে প্রায় ১০০ জন প্রাণ হারিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে, স্থানীয় সময় সকাল ৮:৪৫ পর্যন্ত মোট ২০০১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ৭৩৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। খামেনির বাসভবনের ওপর দুটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

খামেনির মৃত্যুর পর ইরান নতি স্বীকার করতে রাজি নয়। ইরানের রিভল্যুশনারি গার্ডস কোর (IRGC) ইতিমধ্যেই 'অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪'-এর তৃতীয় ও চতুর্থ ধাপ শুরু করেছে। তারা দাবি করেছে যে, ইরানের ড্রোন ও উন্নত মিসাইলগুলো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলোতে আঘাত হানছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লরিজানি এক বার্তায় বলেছেন, "ইরানের জনগণ এই কাপুরুষোচিত হামলার জন্য আমেরিকা ও ইসরায়েলকে চরম অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবে।" 

১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি ইরানের হাল ধরেছিলেন। দীর্ঘ চার দশকের শাসনামলে তিনি ইরানের সামরিক কাঠামো ও নীতি নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন সারা বিশ্বের নজর ইরানের পরবর্তী উত্তরাধিকারী কে হবেন এবং ইরান এই ঘটনার কতটুকু ভয়াবহ প্রতিশোধ নেবে সেদিকে।

No comments found


News Card Generator