তিনি বলেন, সবকিছুরই শেষ আছে। হয়তো আজ আমার সেবার প্রাতিষ্ঠানিক পথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেল। উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদ বাতিলের মাধ্যমে একটি জনসেবার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে যারা রয়েছেন, তাদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই রইলো দোয়া ও ভালোবাসা।
নিজের পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, তিনি একজন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ এবং এই পরিচয় নিয়েই সাধারণ মানুষের দুয়ারে গিয়েছেন। মানুষ আমাকে ভালোবেসে তাদের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত করেছিলেন। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি মানুষের জন্য কাজ করতে এবং আমৃত্যু সেবায় নিয়োজিত থাকতে চেয়েছি, যোগ করেন তিনি।
রাষ্ট্রের প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, জনগণ যখন আমাকে আপন করে নিয়েছে, তখন রাষ্ট্র কেন আমাদের এই সেবার সুযোগ কেড়ে নিল?
সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি অবহেলা ও বৈষম্যের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখনো অনেকেই অবজ্ঞার সুরে প্রশ্ন করেন হিজড়া জনগোষ্ঠী কি মানুষ? এর জবাবে তিনি বলেন, আমরাও রক্ত-মাংসের মানুষ। আমাদেরও স্বপ্ন, মেধা ও মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা আছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সমাজে এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই আজও রাস্তাঘাটে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কষ্টের কথা শোনার মতো কেউ নেই। তাদের আর্তনাদ রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছায় না। এই বিচারহীনতা ও অবহেলার শেষ কোথায়? প্রশ্ন তোলেন তিনি।
একজন জনপ্রতিনিধির পাশাপাশি একজন বঞ্চিত মানুষ হিসেবে কথা বলছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের ঘর নেই, যাদের সমাজ স্বীকৃতি দিতে কুণ্ঠাবোধ করে, তাদের হাহাকার কি কোনোদিন রাষ্ট্রের কানে পৌঁছাবে?
শেষে তিনি বলেন, তার অর্জিত পদটি হারালেও মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা ও সাহস অটুট থাকবে। স্রষ্টা হয়তো অন্য কোনো পথে মানুষের সেবা করার সুযোগ দেবেন। আমি মানুষের মাঝেই থাকবো এবং তাদের অধিকারের কথা বলে যাবো।



















