close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

মানসিক নির্যাতন কি শুধু পারিবারিক বিষয়, নাকি শাস্তিযোগ্য অপরাধ?..

Akib Hasan Shad avatar   
Akib Hasan Shad
****

 

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক নির্যাতন চোখে দেখা যায় না। তাই এটিকে অনেক সময় ‘স্বামী-স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়’ বা ‘পারিবারিক ঝামেলা’ হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া হয়। অথচ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী মানসিক নির্যাতন একটি স্বীকৃত অপরাধ, যার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এর ধারা ৩(খ) অনুযায়ী, মৌখিক অপমান, গালাগালি, ভয় দেখানো, হয়রানি, চলাফেরা বা যোগাযোগে বাধা এবং মত প্রকাশে হস্তক্ষেপ—সবই মানসিক নির্যাতনের অন্তর্ভুক্ত।
আইন অনুযায়ী, এই নির্যাতনের ফলে যদি ভুক্তভোগীর মানসিক ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়, তাহলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। যদিও বাস্তবে অবসাদ বা বিষণ্ণতার মতো মানসিক ক্ষতি প্রমাণ করা কঠিন, তবুও অডিও-ভিডিও রেকর্ড, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও মনোবিদের রিপোর্ট আইনি সহায়তার পথ সুগম করতে পারে।
এই আইনের অধীনে আদালত সুরক্ষা আদেশ, বসবাসের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা বা কাউন্সেলিংয়ের নির্দেশ দিতে পারেন। এমনকি আদালতের আদেশ অমান্য করলে ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধানও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক নির্যাতনকে স্বাভাবিক ভেবে সহ্য না করে আইনের আশ্রয় নেওয়াই হতে পারে ভুক্তভোগীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।
লিগ্যাল নোট (Legal Note) :
Subject: Legal Remedies Against Mental Cruelty in Bangladesh
Applicable Laws:
১.পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০
ধারা ৩(খ): মানসিক নির্যাতনের সংজ্ঞা
ধারা ১৯–২২: সুরক্ষা আদেশ, বসবাস আদেশ, ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসা
ধারা ২৩: আদালতের আদেশ অমান্য করলে
➤ ৬ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা উভয়
২.দণ্ডবিধি, ১৮৬০
ধারা ৫০৬: ভয় দেখানো / হুমকি
➤ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা
ধারা ৫০৯: নারীর শালীনতা হানি
➤ ১ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা
Evidence Requirement:
অডিও/ভিডিও রেকর্ড,
সাক্ষীর জবানবন্দি,
চিকিৎসক বা মনোবিদের সার্টিফিকেট,
লিখিত বার্তা বা কল রেকর্ড।
মানসিক নির্যাতন সরাসরি বা পরোক্ষভাবে একাধিক আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভুক্তভোগী পুরুষ অথবা নারী আদালতের মাধ্যমে সুরক্ষা ও প্রতিকার চাইতে পারেন।
গালাগালি, অপমান, খোঁটা দেওয়া, ভয় দেখানো, যোগাযোগে বাধা, পরিবার নিয়ে বিদ্রুপ—এগুলো “স্বাভাবিক পারিবারিক আচরণ” নয়।এগুলো মানসিক নির্যাতন।আর মানসিক নির্যাতন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
পারিবারিক সহিংসতা আইন, ২০১০ অনুযায়ী—
আদালত সুরক্ষা আদেশ দিতে পারে।
ক্ষতিপূরণ আদায় করা যায়।
আদেশ অমান্য করলে জেল-জরিমানা হতে পারে।
সাহায্যের প্রয়োজন হলে জাতীয় হেল্পলাইন ১০৯ এ কল করে দ্রুত সেবা নেয়া যাবে। তাছাড়া নিকটস্থ থানায় অভিযোগ করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। অথবা বিশ্বস্ত আইনজীবী বা কাউন্সেলরের পরামর্শ অনুযায়ী আইনি সহায়তা নিতে হবে।
মনে রাখা জরুরী যে _ চুপ করে সহ্য করা কোন সমাধান নয়।
আইন আপনার পাশে আছে।

没有找到评论


News Card Generator