মাদারগঞ্জের নীতমারি স্কুলের বেহাল দশা ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা ..

Md Shakil avatar   
Md Shakil
​মোহাম্মদ শাকিল

স্কুলের ঘণ্টা বাজলে শিশুরা আনন্দের সাথে ক্লাসে ঢোকার কথা, কিন্তু মাদারগঞ্জের নীতমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দৃশ্যটি উল্টো। এখানে শিশুরা ক্লাসে ঢোকে বুকভরা আতঙ্ক নিয়ে, আর প্রতিটি সেকেন্ড পার করে ওপরের ছাদটি ধসে পড়ার প্রহর গুনে। জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ১নং চরপাকেরদহ ইউনিয়নের এই বিদ্যালয়টি এখন আর কোনো বিদ্যাপিঠ নয়, বরং এক জীবন্ত 'মৃত্যুফাঁদ'।

​খসে পড়া ছাদের অংশ , বেরিয়ে আসা কঙ্কাল
​বিদ্যালয় ভবনের দিকে তাকালে মনে হয় এটি কোনো পরিত্যক্ত ধ্বংসস্তূপ। ছাদের পলেস্তারা খসে কঙ্কালসার রডগুলো বেরিয়ে এসেছে, যেন ক্ষুধার্ত কোনো দানব হা করে আছে শিশুদের গিলে ফেলার জন্য। দেয়ালের দীর্ঘ ফাটলগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছে—যেকোনো ছোট কম্পনেই ধুলোয় মিশে যেতে পারে কয়েক ডজন প্রাণ।
​পেনসিলের বদলে আতঙ্ক যখন নিত্যসঙ্গী
​শিক্ষার্থীরা যখন খাতা-কলমে মনোযোগ দেওয়ার কথা, তখন তাদের চোখ থাকে ছাদের ফাটলের দিকে। কোমলমতি এক শিক্ষার্থীর ভাষায়, "ক্লাস করার সময় ভয় লাগে, কখন মাথার ওপর ছাদ পড়ে যায়!" এই ভয়ের সংস্কৃতি এতটাই প্রকট হয়েছে যে, অনেক মা-বাবা এখন সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর চেয়ে বাড়িতে বসিয়ে রাখাকেই নিরাপদ মনে করছেন।
​একজন অভিভাবকের আর্তনাদ সাধারণের মনে প্রশ্ন জাগায়: "আমরা কি সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছি নাকি কফিনে বন্দি করছি?"

​ফাইলবন্দি আশ্বাস বনাম বাস্তবতার লড়াই
​উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার স্কুলটি  পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন। স্কুল পরিদর্শন করে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি। 

কিন্তু প্রশ্ন হলো—প্রশাসনের এই আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কি কোনো প্রাণহানির আগে শেষ হবে? এলাকাবাসীর দাবি স্পষ্ট, তারা আর আশ্বাস চান না, চান একটি নিরাপদ ছাদ। যেখানে শিশুরা প্রাণ খুলে হাসবে, আতঙ্কিত হয়ে ছাদের দিকে তাকাবে না।

​নীতমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই ভগ্নদশা কেবল একটি ভবনের জরাজীর্ণতা নয়, বরং আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকাঠামোর এক করুণ প্রতিচ্ছবি। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর শোক প্রস্তাব বা তদন্ত কমিটি করার চেয়ে, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া কি বেশি জরুরি নয়?

Комментариев нет


News Card Generator