কুড়িগ্রাম-২ আসনে বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানের শীষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তাদের চাপাক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটা শুরু করেছে। এর ফলে শা শা গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে শাপলা কলি ও লাঙ্গল প্রতীক। বিশেষ করে আওয়ামী ভোটার এবং হিন্দু ভোটারগণ লাঙ্গলকে বেছে নিচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি অঘটন শুরু করেছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা এখন ব্যাক গিয়ার মারা শুরু করেছে। এত দিন দল করার অজুহাতে মিছিল মিটিংগে থাকলেও ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তারা ধানের শীষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। যে সকল কারণে তাদের এই সিদ্ধান্ত সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে জানা গেছে। কারণ সমূহঃ
১. ভারতীয় নাগরিক ইন্ডিয়ান মোস্তফার সংগে জোগ সাজস ও কেন্দ্রে টাকা দিয়ে বিএনপি প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হয়েছে। এই কমিটি গঠন থেকেই বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা কর্মী চরম ভাবে ক্ষুব্ধ। তখন থেকেই সোহেলের নির্বাচনে প্রার্থিতার বিষয়ে তারা নেতিবাচক অবস্থান গ্রহণ করছে।
২.সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদের রাজনীতির শুরুটাই বেঈমানী দিয়ে শুরু হয়েছে। সকলের সাথেই তার বেইমানির কাহিনী বিদ্যমান। বিশেষ করে জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান রানার আনুকূল্য নিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে অবস্থান সৃষ্টি করে সেই সাইফুর রহমান রানার সাথে বেইমানি ও গ্ৰুপিং করেছে সোহেল।রানা গ্ৰুপের কোনভাবেই সোহেলকে মেনে নিতে পারছেনা।
৩. টেন্ডারবাজির নামে স্বার্থ হাসিলে সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বরাবরই নিজের বাইরে কারো জন্যে কিছু করেনি। বিশেষ করে হাসিনা পতনের পর তার টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজির বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এই কারণে দলের নেতাকর্মীদের মাঝে সোহেলের বিষয়ে মারাত্বক নেগেটিভ ধারণা বিদ্যমান।
৪. সোহেলের পিতা ভারত থেকে আগত একজন সেটেলার। আবার মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির অন্যতম সদস্য। একদিকে স্বাধীনতা বিরোধী আবার ইন্ডিয়া থেকে আগমননের কারণে প্রো-ইন্ডিয়ান হিসাবে ধানের শীষের প্রার্থী সোহেলের বিষয়ে কুড়িগ্রামের ভোটারগণের নেতিবাচক ধারণা প্রবল।
৫. এছাড়াও হাসপাতাল পাড়ায় সরকারের জমি বেদখল করে দোকানপাট করা, হাসপাতালের রোগীদের দালালদের মাধ্যমে ভাগিয়ে এনে তার ক্লিনিকে চিকিৎসার নামে সর্বশান্ত করা, হাসপাতালের টেন্ডারে সিন্ডিকেট করে লুটপাট করার বিষয়টি খুব খারাপ ভাবে গ্রহণ করেছে বিএনপির নেতা কর্মী সহ কুড়িগ্রাম-২ আসনের ভোটারগণ।
এ কারণে সকলে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। সঙ্গতকারণে এই আসনে বিএনপির মারাত্বক ফলাফল বিপর্যয় ঘটবে বলে সকলে মনে করেন।



















