জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নের সুতার গুচ্ছগ্রামে ধানক্ষেত থেকে আশুরা (৪৮) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার সাবেক স্বামী বাবলু মন্ডলকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে মামুদপুর ইউনিয়নের আইমাপুর নামাজগর মাঠের একটি অগভীর নলকূপ ঘর থেকে বাবলুকে আটক করে ক্ষেতলাল থানা পুলিশ।
এর আগে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে আটিদাশরা মৌজার সুতার গুচ্ছগ্রাম সংলগ্ন সিরাজুল ইসলামের ধানক্ষেতে মরদেহটি প্রথম দেখতে পান নলকূপের ডেনম্যান আব্দুস সালাম। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবার জানায়, আশুরা একই গ্রামের মোফাজ্জল ওরফে মফের ছেলে বাবলুর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ছিলেন। বাবলুর তিন স্ত্রীর মধ্যে আশুরা ছিলেন তৃতীয়। বিচ্ছেদের পর তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং যৌতুকের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার দিন বাবলু তার সাবেক স্ত্রী আশুরাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেন এবং স্থানীয় বাজারেও তাদের একসঙ্গে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওইদিনই সুতার পুকুর আদর্শগ্রামের পশ্চিমে রেজাউলের ধানের জমিতে তাকে হত্যা করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের মাথার পেছনে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল থেকে একটি স্যান্ডেল, গেঞ্জি ও কাদামাখা লুঙ্গি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোখলেসুর রহমান জানান, স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক স্বামী বাবলুকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
Aucun commentaire trouvé



















