ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী ডা. জাহিদুল ইসলাম ভালুকাবাসীর উদ্দেশে একটি ভিডিও বার্তা প্রদান করেছেন। ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের পরিচয়, রাজনৈতিক দর্শন ও এলাকার মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।
ভিডিও বার্তায় ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি ভালুকার ভাটাচরের সন্তান। তার দাদা ছিলেন একজন কৃষক এবং বাবা ছিলেন বাসচালক। সাধারণ এক পরিবার থেকে উঠে এসে আজ তিনি মানুষের সামনে কথা বলছেন নিজের জন্মভূমিতে দাঁড়িয়ে। শৈশবের স্মৃতি, বেড়ে ওঠা সবকিছুই এই এলাকার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পড়ালেখার প্রয়োজনে ঢাকায় তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করেন। এরপর মানুষের সেবা করার স্বপ্ন থেকেই ডাক্তারি পড়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং বর্তমানে তিনি একজন ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কর্মরত। ছাত্রজীবন থেকেই তরুণদের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে আসছেন তিনি।
ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমাজগঠনমূলক কাজে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের যুবনীতি ও তরুণদের বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকার সুযোগ পান, যা থেকেই তার রাজনৈতিক সচেতনতার সূচনা।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করতে গিয়ে দেখেছেন সাধারণ মানুষের মধ্যে রাজনীতি নিয়ে গভীর হতাশা রয়েছে। মানুষ কেবল সমস্যার কথা বলে, জনপ্রতিনিধিদের দোষারোপ করে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে রাজনীতিবিমুখতা তাকে ভাবিয়েছে। এখান থেকেই তার উপলব্ধি হয় যে, বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।
ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষিত, রাষ্ট্রসচেতন ও মানুষের জন্য কাজ করতে চায় এমন মানুষের রাজনীতিতে আসা জরুরি। ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তার অংশ হিসেবেই তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে যুক্ত হন।
তিনি জানান, সেই ধারাবাহিকতায় দল থেকে তাকে ভালুকা আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের দায়িত্ব কেবল একজন এমপি নির্বাচন করেই শেষ নয়। জনগণকেই তাদের প্রতিনিধি জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে, তার কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং তিনি জনগণের অধিকার নিয়ে কথা বলছেন কিনা তা নজরদারি করতে হবে।
ভিডিও বার্তায় তিনি আরও বলেন, একজন সংসদ সদস্য মূলত জনগণের কর্মচারী। সবাই মিলে যদি তাকে একাউন্টেবল করা যায়, তবেই সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আসবে। তিনি নিজেকে কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং জনগণের পাশে থাকা একজন সহযোদ্ধা হিসেবে দেখতে চান।
শেষে ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি কারও কাছে ভোট চাইতে আসেননি। তিনি দোয়া চান, পাশে থাকার আহ্বান জানান এবং সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। একটি সুন্দর আগামীর ভালুকা গড়তে সামাজিক পরিবর্তন, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও দেশ গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ডা. জাহিদুল ইসলাম ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।



















