কোটি টাকা লোপাট : পটুয়াখালীর এতিমদের ত্রাতা হয়ে লড়ছেন ডিসি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী        ..

মুহাম্মাদ রাকিব avatar   
মুহাম্মাদ রাকিব
স্টাফ রিপোর্টার :

                                                                              পটুয়াখালী জেলার বেসরকারি এতিমখানাগুলোতে সরকারি বরাদ্দের (ক্যাপিটেশন গ্রান্ট) কোটি কোটি টাকা লোপাট বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে এবং অনিয়ম বন্ধে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি।
সম্প্রতি জেলা প্রশাসক পটুয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস এম শাহজাদাকে তলব করে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ইউএনওদের নিজ নিজ এলাকার এতিমখানাগুলোতে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতি এক বছর সময়ে দুই কিস্তিতে পটুয়াখালী জেলার ৫৭টি বেসরকারি এতিমখানায় ১৫৪৩ জন এতিমের জন্য ৩ কোটি ৭০ লাখ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করে। অভিযোগ রয়েছে, এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ও সমাজসেবা অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থই লোপাট করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে  দেখা যায়, 
চরবোরহান শিশু সদন (দশমিনা) নামের প্রতিষ্ঠানটির অস্বিত্ব নেই  শুধুমাত্র সাইনবোর্ড ঝোলানো রয়েছে । এলাকাটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে অবস্থানের কারণে সমাজসেবা কর্মকর্তাদের মাসিক মাসোয়ারার ভিত্তিতে কাগজে কলমে চলছে  প্রতিষ্ঠান টি  কাগজপত্রে ৫৪ জন শিশু দেখিয়ে প্রতি মাসে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে।
চারাবুনিয়া ফারুকিয়া শিশু সদন (পটুয়াখালী সদর) মাদারবুনিয়া ইউনিয়নে অবস্থিত এই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোনো এতিম শিশুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অথচ ২০০৩ সাল থেকে ৫৭ জন শিশুর নামে প্রতি মাসে ১ লাখ ১৪ হাজার টাকা বরাদ্দ নেয়া হচ্ছে। গত ২৩ বছরে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩ কোটি ১৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ।

ঝিলবুনিয়া শিশু সদনে (ভুরিয়া ইউনিয়ন) মাত্র ২ জন এতিম থাকলেও ১৫ জনের নামে মাসে ৩০ হাজার করে ২০০৮ সাল থেকে প্রায় ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোপাট করা হয়েছে।

বায়তুল আমান ট্রাস্টে ১৫ জন ছাত্র থাকলেও ২৮ জনের নামে মাসিক ৫৬ হাজার টাকা বরাদ্দ তোলা হচ্ছে।

এছাড়া মির্জাগঞ্জ, কলাপাড়া, দুমকি, গলাচিপা, বাউফল ও রাঙ্গাবালী উপজেলার অবস্থা আরও ভয়াবহ। অনেক জায়গায় শুধুমাত্র সাইনবোর্ড টাঙিয়ে বছরের পর বছর সরকারি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী চক্র।
এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এস এম শাহজাদা দ্যা অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "আমরা পরিদর্শনে গেলে অনেক সময় ভাড়া করা শিশু এনে দেখানো হয়। শিশু কম থাকলে তারা নানা অজুহাত দেয়। অনেকে প্রভাবশালী হওয়ায় আমাদের পক্ষে ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়ে পড়ে।"
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পটুয়াখালী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাপস বিশ্বাস  জানান, এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ যারা আত্মসাৎ করছে, তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা প্রশাসকের এই নজরদারির ফলে এখন থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে , বর্তমান পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক জনাব ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী যোগদানের পাঁচ মাসের মধ্যেই পটুয়াখালী জেলাকে দুর্নীতি নির্মূল  করতে একের পর এক যে সাহসী কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়ে জেলাবাসীর মনে স্থান করে নিয়েছেন একমাত্র তার দ্বারাই সম্ভব এতিমদের হক লোপাট কারীদের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা তাদের দাবী  শুধু তদন্ত নয়, দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ‘লুটেরা সিন্ডিকেট’কে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

Keine Kommentare gefunden


News Card Generator