নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নে সংঘটিত হামলার ঘটনায় একরাম হোসেন নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ ডিসেম্বর সকাল প্রায় ৯টার দিকে চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অলিমিয়াজীর বাড়িতে ৭০–৮০ জনের একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হন বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে নোয়াখালী আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নম্বর সি-আর ০১/২০২৬। মামলায় স্থানীয় এক শিক্ষকের নামসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, নোয়াখালী জেলা স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক আবুবক্কর ছিদ্দিক আলমগীরের নির্দেশে কিশোরদের একটি দল হামলায় অংশ নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানায় আলমগীর শিক্ষকতাকে পুঁজি করে নানান জায়গায় নারীদের প্রলোভন দিয়ে একাধিক বিয়ে করেছে। তারপরও প্রলোভন এর কৌশলের কাছে হার মেনেছে নারীরা। এলাকাবাসী দাবি করেন একরাম হোসেনকে বিভিন্ন রকমের কৌশল ও লোভ দেখিয়ে এই জায়গা দখলের পাঁয়তারায় করছে।
মামলার ভিত্তিতে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একরাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে বিবাদীপক্ষের দাবি, তারা জামিনে রয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করেছে, দীর্ঘদিন ধরে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও চলাচলের পথ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। বাড়ির পরিবেশ নষ্ট ও দখলচেষ্টাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এর জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রস্তুতি চলছে বলে পরিবারটি জানিয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার পর অভিযোগ পেয়েছি। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
একরাম হোসেনের গ্রেপ্তারের পর এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া রোধে সামাজিক ও পারিবারিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বানও জানানো হয়েছে।



















