কেন্দ্রীয় নির্দেশের দোহাই দিয়ে ইবিতে নিয়োগ বন্ধের হুমকি বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের..

Mahfujul Haque Piyas avatar   
Mahfujul Haque Piyas
****

ইবি প্রতিনিধি:

জুলাই বিপ্লবের দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শিক্ষক সংকট নিরসনে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাত্র ছয়জন শিক্ষক নিয়োগ দিতে পেরেছে। ফলে অন্তত ১৪টি বিভাগে তীব্র শিক্ষক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে একাডেমিক কার্যক্রম, বাড়ছে সেশনজট। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন করে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নিলে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার দোহাই দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থি শিক্ষক নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে। 

অভিযোগ উঠেছে– জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান এবং ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান সোমবার (১২ জানুয়ারি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর কার্যালয়ে গিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া থামানোর জন্য চাপ দেন এবং হুমকি-ধমকি দেন। দু’দফায় এরকম হুমকির ঘটনা ঘটেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, তারা উপাচার্যকে আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর নিয়োগ বোর্ড করার দাবি জানান। তবে বিএনপিপন্থি অপর অংশের শিক্ষকরা নিয়োগ বন্ধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

এ বিষয়ে ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “আমরা কোনো হুমকি দেইনি। মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে জাতীয় নির্বাচনের আগে নতুন কোনো নিয়োগ বোর্ড না করার জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ করেছি। কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে আমরা এই অনুরোধ জানিয়েছি।”

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত কিনা জানতে যোগাযোগ করা হলে ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, "এ ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি। ক্যাম্পাসের বিষয়– সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দকে জিজ্ঞেস করেন কারা সিদ্ধান্ত দিয়েছে।"

অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো চাপ দিইনি, হুমকি দিইনি। শুধু অনুরোধ করেছি নির্বাচনের আগে নতুন বোর্ড না দিতে। যদি আমরা সত্যিই হুমকি দিই, তাহলে ভাইস চ্যান্সেলরকে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে বলেন। যে অভিযোগ করেছে তারা মিথ্যা বলছে।”

ইবি জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান বলেন, "ভিসির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা শুধু পরামর্শ দিয়েছি যেন এটি আরও স্বচ্ছভাবে হয়। রিটেন টেস্টের বিষয়গুলো ছাত্রদের আগেভাগে জানানো উচিত, যাতে তারা প্রস্তুতি নিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “ভিসি হওয়ার আশা করা বা বিএনপি সরকার গঠনের প্রত্যাশা করা অন্যায় নয়। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা শুধু চাই সুষ্ঠুতা বজায় থাকুক।”

জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন ব্যাংকে থাকায় বক্তব্য দিতে পারেননি। পরে আবার একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অন্যদিকে বিএনপিপন্থি সিনিয়র শিক্ষক ও ইউট্যাব ইবি শাখার সদস্য অধ্যাপক ড. নজীবুল হক বলেন, "নিয়োগ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তা স্থগিত হলে একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।"
চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ায় 'কারো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল কি না' জানতে চাইলে তিনি বলেন, "না, আমি এখানে ব্যক্তিগত স্বার্থ দেখছি না।"
উপাচার্যকে বিএনপিপন্থি শিক্ষক নেতাদের একাংশের হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমি এই বিষয়ে অবগত নই। তাই মন্তব্য করতে চাচ্ছি না।"

বিএনপিপন্থি চারজন শিক্ষক কর্তৃক উপাচার্যকে হুমকি দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. আলীনূর রহমান বলেন, "আমি হুমকি দেয়ার বিষয়টা শুনেছি। হয়তোবা ওনারা সেখানে নিয়োগ বন্ধ রাখতে বলেছে। সেখানে তারা বিএনপির সেন্টারের নির্দেশ নাকি নিজের ইচ্ছায় বলেছে, সেটা তো তাদের দেখার বিষয়।"

চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়া কারো ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল ও স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি বলেন, "আমি যতটুকু জানি এবারের নিয়োগ স্বচ্ছ হচ্ছে। এখানে কারো ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল হচ্ছে না।"
চলমান নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাধার ক্ষেত্রে কারো ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল ও স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি বলেন, "অনেকেই নিজের প্রার্থীর চাকরির বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে চিন্তা করতে পারে।  সেজন্য এখানে ব্যক্তিস্বার্থ থাকতেই পারে।"

ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন,' ঐ চারজন শিক্ষক এসেছিলেন। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কথা বলে তারা আমাকে নিয়োগ বন্ধ রাখতে বলেছে। কিন্তু সারা বাংলাদেশের কোথাও শিক্ষকরা নিয়োগে বাধা দিচ্ছে না। তার মানে দেশের ইউনিভার্সিটিগুলোতে বা কোনো চাকরির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের বাধা দানের কোনো ইনফরমেশন নেই।

উল্লেখ্য, ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যূনতম ১ হাজার ৮০ জন শিক্ষকের প্রয়োজন থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৪০৫ জন। এতে ইউজিসির ক্লাস লোড পলিসি মানা সম্ভব হচ্ছে না এবং অ্যাক্রিডিটেশনের ন্যূনতম শর্তও পূরণ হচ্ছে না। সম্প্রতি প্রশাসন ১৪টি বিভাগসহ দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে মোট ২৮টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন বিভাগের নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে। পরে নতুন সূচি অনুযায়ী ১১, ১৪ ও ১৮ জানুয়ারি বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বোর্ড ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

Nema komentara


News Card Generator