close

কমেন্ট করুন পয়েন্ট জিতুন!

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলাফল অতিরঞ্জিত করেছেন ট্রাম্প, খামেনি..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ট্রাম্প ইরানে মার্কিন হামলার সাফল্য নিয়ে বাড়িয়ে বলেছেন বলে মন্তব্য খামেনির। ইরান বলছে, এই বক্তব্যের পেছনে লুকানো রয়েছে বাস্তবতা, যা গোপন রাখতেই অতিরঞ্জন করা হয়েছে।..

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছে। তবে ট্রাম্পের এই দাবিকে ‘অতিরঞ্জন’ ও ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্যুত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

সোমবার (৩০ জুন) তুরস্কভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি (এএ) এ বিষয়ে একটি বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার (২৯ জুন) খামেনি তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, “আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ঘটনাগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন, যা সম্পূর্ণরূপে অতিরঞ্জিত। এতে প্রকৃত সত্য চাপা পড়েছে। তারা (মার্কিন বাহিনী) প্রকৃতপক্ষে কিছুই অর্জন করতে পারেনি।”

খামেনি আরও বলেন, “এই অতিরঞ্জনের প্রয়োজন হয়েছিল কারণ তাদের অর্জনের কথা বলার কিছু ছিল না। যারা বিবৃতিটি শুনেছে, তারা জানে—এর আড়ালে অন্য সত্য লুকানো রয়েছে।”

এর আগে, মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অভিযান চালিয়েছি। তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছি। এরপর থেমে গেছি। এটি ছিল এক দারুণ ঘটনা। তারা আর বেশিদূর এগোতে পারত না। ওই ১২ দিন ছিল অত্যন্ত তীব্র—খুবই তীব্র।”

ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। অনেকে একে ‘রাজনৈতিক প্রপাগান্ডা’ বলে আখ্যায়িত করেন। আর ইরান সরাসরি ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে।

১৩ জুন, ইসরায়েল প্রথম ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক গবেষণা কেন্দ্র এবং কিছু বেসামরিক স্থাপনা। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ৬০৬ জন নিহত হন এবং আহত হন ৫ হাজার ৩৩২ জনের বেশি মানুষ।

এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করলেও, কিছুদিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও হামলায় অংশ নেয়। মার্কিন বাহিনী ইরানের ফোরদো, নাটাঞ্জ এবং ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর নির্ভুল বোমা হামলা চালায়।

মার্কিন সূত্র বলছে, এসব স্থাপনাগুলোতে পারমাণবিক কর্মসূচি চালানো হচ্ছিল, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকি’ ছিল। তবে ইরান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং বলেছে, এই হামলা ছিল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

এই আগ্রাসনের জবাবে ইরান দ্রুত পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানায়। তেহরান ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি, রাডার স্টেশন ও কিছু কৌশলগত শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই পাল্টা হামলায় অন্তত ২৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয় এবং আহত হয় ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি।

ইরান এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ বলে দাবি করে। তারা জানায়, যদি কোনো রাষ্ট্র তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে, তবে তার জবাব দিতে তারা সব সময় প্রস্তুত।

এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত অবশেষে ২৪ জুন একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে স্থগিত হয়। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয় যুক্তরাষ্ট্র নিজেই। যদিও ইরান এতে সম্মত হয়, তবু তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়—যদি আগামীতেও ইরানের বিরুদ্ধে এমন হামলা চালানো হয়, তাহলে জবাব আরও ভয়াবহ হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংঘাত শুধু ইরান-ইসরায়েল কিংবা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এবং খামেনির বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—ইরান নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও নড়বে না।

ট্রাম্পের ‘বিজয়মুখর বক্তব্য’ যদি কূটনৈতিক কৌশল হয়, তবে খামেনির জবাব তা ভেঙে খানখান করে দিয়েছে। প্রকৃত সত্য কতটা ভিন্ন, তা বোঝাতে চেয়েছেন তিনি—শুধু কথায় নয়, বাস্তবতায়ও।

コメントがありません


News Card Generator