close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

জয়পুরহাটে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের সংঘর্ষে আহত ১১, সাংবাদিকদের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ স্বতন্ত্র প্রার্থী..

Abu Raihan avatar   
Abu Raihan
****

জয়পুরহাটে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে জয়পুরহাট সরকারি কলেজের পশ্চিম গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

পরে রাত ৮টার দিকে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতাল চত্বরে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখাকে ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় সাংবাদিক ও উপস্থিত সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার তর্ক-বিতর্ক শুরু হলে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে যৌথ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক সদস্য হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং তাকে নিরাপদে হাসপাতাল ত্যাগে সহায়তা করেন।

রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা তার ফেসবুক পেজ থেকে প্রায় ২২ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের একটি লাইভে আসেন। সেখানে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। লাইভের প্রায় ৫ মিনিট পর থেকে তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে কথা বলা শুরু করেন। একপর্যায়ে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দিলে জেলার সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে জয়পুরহাট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রাশেদুজ্জামান রাশেদ বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখার কিছু গৃহপালিত হলুদ সাংবাদিক রয়েছে। এ কারণে তিনি মূলধারার সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আল মামুন মিয়ার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা তার সমর্থকদের নিয়ে শহরের শান্তিনগর এলাকায় গেলে সেখানে বিএনপি প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধানের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হন।

আহত বিএনপি কর্মীদের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদপুর জেলা থেকে ভাড়াটিয়া লোকজন এনে জয়পুরহাট সরকারি কলেজ ভোটকেন্দ্র এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছিলেন। স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করেন এবং বিএনপি কর্মীদের খবর দেন। বিএনপি কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে বাধা দিলে সংঘর্ষ বাধে।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার শিখা অভিযোগ করেন, তারা জয়পুরহাট ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে যাচ্ছিলেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়, তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তাকে শ্লীলতাহানির শিকার হতে হয়।

বিএনপি মনোনীত জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান বলেন, এর আগেও বহিরাগত ভাড়া করে এনে পাঁচবিবি যুবদল নেতাকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছিল ওই স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এবারও তিনি অন্য জেলা থেকে লোকজন এনে ভোট কেনার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় আমাদের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজন আহত হন।

জয়পুরহাট থানার ওসি (তদন্ত) নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার সমর্থকদের সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়েছে। উভয় পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Nenhum comentário encontrado


News Card Generator