close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

জলবায়ু সংকটে পৃথিবীর প্রথম ডুবতে চলা দেশ

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
১৯৯৫ সালে কিরাবাতি সরকার এই রেখাটি পরিবর্তন করে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয়, যাতে পুরো দেশটি একই দিনের মধ্যে থাকে..

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের কিরাবাতি (Kiribati) দ্বীপপুঞ্জ বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং জলোচ্ছ্বাসের কারণে এই দেশটি শিগগিরই অদৃশ্য হয়ে যেতে পারে। কিরাবাতি দ্বীপপুঞ্জের মানুষ এই ভয়াবহ বাস্তবতাকে স্বীকার করে নিচ্ছেন এবং অনেকেই ইতোমধ্যেই নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে জমি কিনে 'জলবায়ু শরণার্থী' (Climate Refugees) হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিশ্বের অন্যতম বিচ্ছিন্ন এবং শান্ত এই দ্বীপরাষ্ট্রটি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার (International Date Line) ওপর অবস্থিত এবং এটিই সেই দেশ যেখানে সবার আগে সূর্য ওঠে। তবে দেশের সর্বোচ্চ উচ্চতা মাত্র ৩ মিটার (৯.৮ ফুট) হওয়ায় এটি সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে। এই দেশটি ভবিষ্যতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে—এই কারণে সরকার ও সাধারণ মানুষ এখন বিদেশে জমি কেনা এবং বিশ্বজুড়ে জলবায়ু আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছে।

ডুবে যাওয়ার বাস্তবতা ও জনজীবনের চিত্র

  • বিপজ্জনক উচ্চতা: কিরাবাতি হলো পৃথিবীর একমাত্র দেশ, যেখানে কোনো পাহাড় নেই। এর সর্বোচ্চ উচ্চতা মাত্র ৩ মিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা কম হওয়ায়, বছরের কিছু মাসে জলোচ্ছ্বাসের ফলে সমুদ্রের পানি রাস্তায় প্রবেশ করে পুরো এলাকা ডুবিয়ে দেয়।

  • পরিবেশগত সুরক্ষা: স্থানীয়রা পরিবেশ রক্ষার জন্য ম্যানগ্রোভের মতো গাছ লাগাচ্ছেন, যার শিকড় মাটিকে আঁকড়ে ধরে উপকূলকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে এবং ঢেউয়ের তীব্রতা কমায়।

  • শরণার্থী হিসেবে প্রস্তুতি: দেশের মানুষজন ইতোমধ্যেই নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে জমি কিনে রাখছেন, যাতে দেশ ডুবে গেলে সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন। কিরাবাতির বাসিন্দাদের 'জলবায়ু শরণার্থী' হিসেবে অভিহিত করার যে নতুন ধারণা তৈরি হচ্ছে, তার উৎস এই দেশটিই।

জীবনের মান ও বিচ্ছিন্নতা

  • জীবনযাত্রা: কিরাবাতি একটি অনুন্নত দেশ হিসেবে বিবেচিত। খাদ্য এবং ফলের জোগান খুবই কম—এখানে মূলত নারিকেল ও সামুদ্রিক খাবার ছাড়া তেমন কিছু পাওয়া যায় না। ফল, এমনকি বেশিরভাগ খাদ্য সামগ্রী বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

  • যোগাযোগ ও পরিবহন: দেশটির রাজধানী তারোয়া একটি প্রবাল প্রাচীর (Coral Atoll) যা ধনুকের মতো বাঁকা। পুরো রাজধানীটি মাত্র ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং এটি এক ঘণ্টায় গাড়ি চালিয়ে শেষ করা যায়। দ্রুত গতির সীমা প্রতি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার। যোগাযোগের একমাত্র উপায় হলো ফিজি থেকে সপ্তাহে মাত্র তিনবার ফ্লাইট।

  • ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান: এই দ্বীপটি একসময় ব্রিটিশ উপনিবেশের অধীনে ছিল এবং ১৯৭৯ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা লাভ করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি আমেরিকা ও জাপানের মধ্যে সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। দেশটি এখন মূলত বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল এবং এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমেরিকা ও জাপানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার জটিলতা

কিরাবাতি আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার (International Date Line) ওপর অবস্থিত। ১৯৯৫ সালে কিরাবাতি সরকার এই রেখাটি পরিবর্তন করে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলকে পশ্চিম দিকে ঠেলে দেয়, যাতে পুরো দেশটি একই দিনের মধ্যে থাকে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কিরাবাতি পৃথিবীর প্রথম দেশ হিসেবে নতুন বছরের সূর্য দেখতে পায় এবং বিশ্বের সবচেয়ে এগিয়ে থাকা টাইম জোন (জিএমটি +১৪) ব্যবহার করে।

No comments found


News Card Generator