ঝালকাঠিতে স্বর্ণ চুরি ও মারধর মামলা: বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান চপল জেলহাজতে..

MD  IMRAN MUNSHI avatar   
MD IMRAN MUNSHI
পুরানো স্বর্ণ চুরি মামলা এবং সাম্প্রতিক মারধরের অভিযোগে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান চপলকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত..

 

​ঝালকাঠি প্রতিনিধি: পুরানো স্বর্ণ চুরি মামলা এবং সাম্প্রতিক মারধরের অভিযোগে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আসাদুজ্জামান চপলকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এইচ এম কবির হোসেন এই আদেশ দেন।

​মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে ঝালকাঠি সদর থানা থেকে চপলকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে তোলা হয়। আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানির সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন না করায় বিচারক তাকে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছিল।

​পুলিশি তথ্যমতে, আসাদুজ্জামান চপলের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কর্ণফুলী গার্ডেন ও নাবানা টাওয়ার মার্কেটের আলোচিত স্বর্ণ চুরি মামলার সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলার একাধিক মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে।

​স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নে চপল বিরোধী একটি বলয়ের সাথে তার দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করে।
​আটকের ঘটনা: সোমবার বিকেল ৫টার দিকে ঝালকাঠি শহরের তিনঘাটলা এলাকার একটি বাসা থেকে চায়ের দাওয়াতের কথা বলে পুলিশ তাকে আটক করে।

​অভিযোগ রয়েছে, গত রোববার সন্ধ্যায় কীর্ত্তিপাশা বাজারে ছাত্রদল নেতা আকাশ বেপারীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর ওপর চপলের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে বাধা দিতে গিয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের আরও কয়েকজন আহত হন।

​ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জুমার নামাজের পর একটি মিলাদ মাহফিলের মিষ্টি বিতরণকে কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মী মো. সবুজ বেপারীকে প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

​পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে মারধরের সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে থানায় আনা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার পরোয়ানা সচল আছে কি না তা যাচাইয়ের পাশাপাশি আপাতত ৫৪ ধারায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
​ঝালকাঠিতে বিএনপির দুই গ্রুপের এই প্রকাশ্য বিরোধ এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। এই গ্রেফতারের ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

No comments found


News Card Generator