close

লাইক দিন পয়েন্ট জিতুন!

ঝালকাঠি-১: নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের হিড়িক, উপাসনালয়ে প্রচারণায় বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা..

MD  IMRAN MUNSHI avatar   
MD IMRAN MUNSHI
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিয়মিত নির্বাচনী সভা ও উঠান বৈঠক করছেন প্রার্থীর..


​নিজস্ব প্রতিবেদক, ঝালকাঠি | ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

​ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের মহোৎসব চলছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিয়মিত নির্বাচনী সভা ও উঠান বৈঠক করছেন প্রার্থীরা। মাঠ পর্যায়ের প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব আইন লঙ্ঘনের চিত্র ফুটে উঠছে। বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীদের মন্দিরে নির্বাচনী সভা এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর রঙিন বিলবোর্ড ব্যবহার নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​গত ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কাঠালিয়া উপজেলার তালগাছিয়া এলাকায় শ্রী শ্রী হরি মন্দিরে এক ধর্মীয় ও মতবিনিময় সভায় যোগ দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও ধানের শীষের প্রার্থী জনাব মোঃ রফিকুল ইসলাম জামাল। গোপাল চাঁদ মতুয়া শাখা সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেন।

​এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সৌলজালিয়া ইউনিয়নের বিনাপানি বাজারে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ সেবাশ্রমে পুনরায় সনাতনী সম্প্রদায়ের সঙ্গে উঠান বৈঠক করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম জামাল ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি বিএনপির দলীয় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। যদিও মন্দির বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে রাজনৈতিক প্রচারণা আইনত দণ্ডনীয়, তবুও প্রার্থীর ফেসবুক ওয়ালে এসব অনুষ্ঠানের স্থিরচিত্র প্রচার করা হচ্ছে।

​একই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী ফয়জুল হকের বিরুদ্ধেও মন্দিরের ভেতর বৈঠক করার অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কাঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের একটি মন্দিরের ভেতর প্রার্থনার স্থানে সারি সারি চেয়ার বসিয়ে তিনি ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেন। গত ২৮ জানুয়ারি বুধবার দিবাগত রাতে প্রার্থী নিজেই এই বৈঠকের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন সনাতনী ধর্মাবলম্বী জানান, “মন্দির আমাদের উপাসনার জায়গা, সেখানে রাজনৈতিক বৈঠক হওয়াটা আমাদের জন্য অস্বস্তিকর।”

​নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের প্রচারণার বিলবোর্ড বা পোস্টার সাদা-কালো হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। তিনি রঙিন বিলবোর্ড ব্যবহার করে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা আইনত অবৈধ।

​সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশালের সম্পাদক রফিকুল আলম বলেন, “এটি কোনো অস্পষ্ট বিষয় নয়। মন্দিরের ভেতর তো নয়ই, প্রাঙ্গণেও নির্বাচনী বক্তব্য প্রদান আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এখানে কোনো ব্যাখ্যার সুযোগ নেই।”

​একাধিক আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন বা রিটার্নিং কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। জামায়াত প্রার্থীর মন্দিরে বৈঠকের বিষয়ে কোনো অনুমতি ছিল কি না, সে বিষয়েও সদুত্তর দিতে পারেনি উপজেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, প্রার্থী ফয়জুল হক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন।
​নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী ধর্মীয় স্থানকে প্রচারণার জন্য ব্যবহার করলে তার প্রার্থিতা বাতিল বা জরিমানার বিধান রয়েছে। সাধারণ ভোটাররা এখন তাকিয়ে আছেন নির্বাচন কমিশনের কঠোর পদক্ষেপের দিকে।

No comments found


News Card Generator