জামায়াতে ইসলামী বর্তমান আমির ড. শফিকুর রহমানের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। দলটির সর্বোচ্চ পদ ‘আমির’-এর জন্য এবার নতুন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। আগামী নির্বাচনে সারা দেশের এক লাখেরও বেশি রুকন সদস্য অংশ নেবেন গোপন ভোটের মাধ্যমে, যা দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ আইনানুগ প্রক্রিয়া।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
গত দেড় দশক ধরে জামায়াত রাজনৈতিক ময়দানে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছে। জাতীয় রাজনীতির নানা সংকট এবং ২৪ এর অভ্যুত্থানের পর দলটি একপ্রকার স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে এসেছে। বর্তমানে দলটি রাজপথে বিভিন্ন দাবিতে সরব হলেও একই সঙ্গে আগামী জাতীয় নির্বাচনের জন্য সব আসনে প্রার্থী ঠিক করার প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত। এ অবস্থায় গুঞ্জন তৈরি হয়েছে যে, ডিসেম্বরে আমির পদসহ কেন্দ্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন হতে পারে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, আমির নির্বাচিত হন তিন বছরের জন্য। দেশের সব রুকন সদস্য ভোটের মাধ্যমে এক জনকে নির্বাচন করেন। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচিত আমির পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার পরামর্শে দলের নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল এবং অন্যান্য নির্বাহী পদে নেতাদের দায়িত্ব বণ্টন করেন। ড. শফিকুর রহমান বর্তমানে দ্বিতীয়বারের মতো আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার মেয়াদ ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।
দলের সূত্রের খবর, এবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুইটি সম্ভাব্য প্যানেল আলোচনা হচ্ছে। এক প্যানেলে রয়েছেন বর্তমান আমির ড. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি এ টি এম আজহারুল ইসলাম। অন্য প্যানেলে রয়েছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। তবে ভোটাররা প্যানেলের বাইরে থাকলেও তাদের পছন্দের কাউকে ভোট দিতে পারবেন।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের ২৫ তারিখের আগে নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। নতুন আমিরকে জাতীয় নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে এবং দলের নেতৃত্ব পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
ড. শফিক ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো জামায়াতের আমির পদে নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হন। গঠনতন্ত্রে বলা আছে, প্রতিটি আমিরের মেয়াদ তিন বছরের, তবে একজন কতবার পদে নির্বাচিত হতে পারবেন তা স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করা হয়নি।
এবারের নির্বাচন শুধু জামায়াতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে না, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও দলের অবস্থানকে প্রভাবিত করবে। দলের মধ্যে আলোচনায় রয়েছে যে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে দলের কর্মক্ষমতা এবং রাজনীতিতে সক্রিয়তা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।