বান্দরবান প্রতিনিধি:
ফ্যাসিস্ট আমলে ‘জয় বাংলা’ নামের অনলাইন পোর্টালের সম্পাদক হিসেবে পরিচিত শহিদুল ইসলামকে ঘিরে ফের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। ৫ই আগস্টের পর তিনি নিজের অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নাম পরিবর্তন করে ‘বান্দরবান সংবাদ’ চালু করলেও তার কর্মকাণ্ড ঘিরে স্থানীয় মহলে প্রশ্ন ও সন্দেহ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
মাটি কাটার ঘটনায় ২০ হাজার টাকা নেওয়ার প্রমাণ
সম্প্রতি বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের কাইচতলী এলাকায় মাটি কাটার ঘটনায় এলাকাবাসীর কাছ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নাম ভাঙিয়ে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার তথ্য ও প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ বেলাল বলেন,
শহিদুল ইসলাম আমাদের বলেছিলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের বিষয়ে সব ম্যানেজ তিনি করবেন। সেই নাম ব্যবহার করে তিনি আমাদের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়েছেন।”
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শহিদুল ইসলাম পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা নন। দপ্তরের সঙ্গে তার কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বা নিয়োগের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
সরকারি দপ্তরের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়—গুরুতর অভিযোগ
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো ব্যক্তি যদি দাপ্তরিক ক্ষমতা ছাড়াই সরকারি দপ্তরের নাম ব্যবহার করে অর্থ লেনদেন করেন, তা শুধু নৈতিক স্খলন নয়—আইনগতভাবেও গুরুতর অপরাধের শামিল। বিষয়টি প্রশাসনিক নীতিমালা ও রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলেও মনে করছেন তারা।
অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি
এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তায় তিনি লিখেছেন:
“১৫ নিয়েছি, আরো ৫ দাওনি… আরো ৫০০০ টাকা পাই।”
এই বার্তাটি প্রকাশ্যে আসার পর অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে এবং এলাকায় তা নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
নাম বদলালেও বিতর্ক থামেনি
স্থানীয়রা বলছেন, ‘জয় বাংলা’ পোর্টালের সম্পাদক হিসেবে পরিচিত থাকা অবস্থায়ও শহিদুল ইসলাম নানা বিতর্কে জড়ালেও ৫ই আগস্টের পর নাম পরিবর্তন করে ‘বান্দরবান সংবাদ’ চালু করলেও তার ভূমিকা ও কর্মকাণ্ডে কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
প্রশাসনিক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
ফ্যাসিস্ট আমলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সম্পাদকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এখনও কোনো পদক্ষেপ না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—সাংবাদিক পরিচয় কি সব ধরনের অনিয়মের ঢাল হতে পারে?
এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। দপ্তরের নীরবতা অভিযোগের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি
স্থানীয় সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত না হলে প্রশাসনের ওপর আস্থা নষ্ট হবে না, পুরো সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদাও ক্ষুণ্ন হবে। তারা অবিলম্বে তদন্ত করে সত্য উদঘাটন এবং প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জয় বাংলা’ পোর্টালের সম্পাদক নাম বদলে ‘বান্দরবান সংবাদ’: পরিবেশ অধিদপ্তরের নাম ভাঙিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগ..
Hiçbir yorum bulunamadı



















