ইউরোপের স্বপ্নে ২৯ লাখ টাকা খো'য়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ‘ভু'য়া ভাইয়ের’ থাবায় যুবক নি'খোঁ'জ!..

Ratna Begum avatar   
Ratna Begum
ইউরোপের স্বপ্নে ২৯ লাখ টাকা খো'য়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ‘ভু'য়া ভাইয়ের’ থাবায় যুবক নি'খোঁ'জ!..
ইউরোপের স্বপ্নে ২৯ লাখ টাকা খো'য়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ‘ভু'য়া ভাইয়ের’ থাবায় যুবক নি'খোঁ'জ!..
​বেলাবতে মানবপাচার চক্রের ভয়ঙ্কর জাল; মামলা হলেও অধরা মূলহোতা পাভেল, ঝুঁকিতে ভুক্তভোগী পরিবার..

রিপোর্ট: ​রত্না বেগম (নরসিংদী)

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

ফ্রান্সে উচ্চ বেতনের লোভনীয় চাকরি আর উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নরসিংদীর একটি মানবপাচারকারী চক্র। তবে স্বপ্নের ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার বদলে ওই যুবককে কৌশলে পাচার করা হয়েছে নেপালে। গত ২৬শে মার্চ থেকে নিখোঁজ রয়েছেন রায়পুরার মামুদপুর এলাকার সেই ভুক্তভোগী যুবক সজিব মিয়া।
​এদিকে, এই ঘটনায় থানায় মামলা হলেও মূলহোতা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উল্টো মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা।


​স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ‘ছোট ভাই’ পরিচয়!


​স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদীর বেলাব উপজেলার চরলক্ষীপুর (মধ্যপাড়া) এলাকার হযরত আলীর ছেলে পাভেল (৪০) নিজেকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছোট ভাই এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেন। এই প্রভাব খাটিয়ে তিনি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মানবপাচারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চালাচ্ছেন। ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর নাম করে তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।


যেভাবে পাতা হলো ফাঁদ


​নিখোঁজ সজিবের স্ত্রী সুমিতা বেগম জানান, তার স্বামীকে ফ্রান্সে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন দফায় প্রায় ২৯ লাখ টাকা আদায় করে পাভেল চক্র।

গত ২৬শে মার্চ ফ্রান্সে পাঠানোর চূড়ান্ত কথা বলে সজিবকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় পাভেল ও তার সহযোগীরা। কিন্তু তাকে ইউরোপে না পাঠিয়ে কৌশলে নেপালে পাচার করে চক্রটি। এরপর থেকেই সজিবের আর কোনো খোঁজ পাচ্ছে না পরিবার।

​স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রটি যুবকদের ইউরোপের কথা বলে লিবিয়া বা নেপাল আটকে রাখে এবং পরবর্তীতে মুক্তিপণের জন্য অমানুষিক নির্যাতন চালায়। এমনকি নির্যাতনের কারণে অনেকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।


মামলা হলেও অধরা আসামিরা, মিলছে হুমকি


​স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে অবশেষে আদালতের দ্বারস্থ হন সুমিতা বেগম। আদালতের নির্দেশে গত এপ্রিল মাসে রায়পুরা থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ আইনের ৫/৬/৭/৮ ধারায় একটি মামলা রুজু করা হয় (মামলা নং-২৪(৪)/২৬)। মামলায় পাভেলসহ ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

​ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সুমিতা বেগম ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে। নিখোঁজ স্বামীকে ফিরে পেতে এবং নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অসহায় সুমিতা বেগম।


পুলিশ যা বলছে


​এ বিষয়ে রায়পুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবুর রহমান জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচার আইনে সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

コメントがありません


News Card Generator