টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর বিশ্ববাসী যে শান্তির আশা নিয়ে ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে ছিল, তা নিরাশায় পর্যবসিত হয়েছে। কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা। তবে এই কূটনৈতিক ব্যর্থতার রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে নতুন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দৃশ্যপটে হাজির হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
১. ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা ও চরম ব্যর্থতা
শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি দুই পক্ষ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ছাড়ার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা সম্ভব হয়নি। এর পরপরই প্রথমে মার্কিন এবং কয়েক ঘণ্টা পর ইরানি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের রাজধানী ত্যাগ করে। দুই দেশই এখন এই ব্যর্থতার জন্য একে অপরকে দায়ী করছে।
২. পুতিনের ফোন কল ও রাশিয়ার নতুন চাল
ইসলামাবাদ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পরপরই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রোববার এক ফোন কলের মাধ্যমে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সাথে কথা বলেন। ক্রেমলিনের বরাত দিয়ে ‘রয়া নিউজ’ জানিয়েছে, পুতিন এই অঞ্চলের চলমান সংঘাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানে রাশিয়াকে একটি ‘প্রধান মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে প্রস্তাব করেছেন।
পুতিনের প্রস্তাবের মূল দিকসমূহ:
-
কূটনৈতিক সমাধান: সামরিক সংঘাতের বদলে আলোচনার টেবিলে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খোঁজা।
-
উত্তেজনা হ্রাস: সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে বিদ্যমান চরম উত্তেজনা কমিয়ে আনতে মস্কোর সরাসরি অংশগ্রহণ।
-
স্থায়ী শান্তি: মধ্যপ্রাচ্যে একটি ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ।
৩. ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন মধ্যস্থতায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছে, ঠিক তখন রাশিয়ার এই প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রবীশ কুমারসহ অনেক আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বলছেন, আমেরিকা বা পশ্চিমা বিশ্বকে পাশ কাটিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব আরও সুসংহত করতেই পুতিন এই মুহূর্তে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে চাইছেন। বিশেষ করে যখন প্রতিদ্বন্দী বৈশ্বিক শক্তিগুলো পিছু হটছে, তখন রাশিয়া নিজেকে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দেখছে।
৪. বর্তমান পরিস্থিতি ও অনিশ্চয়তা
ইসলামাবাদ থেকে দুই প্রতিনিধি দল ফিরে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আতঙ্ক বাড়ছে। যদিও রাশিয়ার এই নতুন প্রস্তাব কিছুটা আশার সঞ্চার করেছে, তবে আমেরিকা বা ইসরায়েল এই রুশ মধ্যস্থতাকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তা এখনো অস্পষ্ট।
উপসংহার: ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ আর ২১ ঘণ্টার ব্যর্থ আলোচনার পর এখন সবার নজর ক্রেমলিনের দিকে। পুতিনের এই নতুন শান্তি প্রস্তাব কি পারবে মধ্যপ্রাচ্যের আগুন নেভাতে, নাকি এটি কেবলই প্রভাব বিস্তারের নতুন কোনো রাজনৈতিক লড়াই—তা বলবে সময়।



















