ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ইরানের বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে ইরানের সকল সমুদ্রবন্দর অভিমুখে নৌ-অবরোধ (Blockade) শুরু করা হচ্ছে। এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ইতিমধ্যে প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলার অতিক্রম করেছে।
১. অবরোধের সময়সীমা ও পরিধি
মার্কিন সেন্টকম এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, সোমবার ইস্টার্ন টাইম সকাল ১০টা (জিএমটি ১৪:০০) থেকে এই অবরোধ কার্যকর হবে। অবরোধের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য পুরোপুরি অচল করে দেওয়া। সেন্টকম আরও জানায় যে, ইরান অভিমুখী বা ইরান থেকে ছেড়ে আসা সকল জাতীয়তার জাহাজ এই অবরোধের আওতায় পড়বে। তবে হরমোজ প্রণালী দিয়ে অন্য কোনো দেশের (অ-ইরানি) বন্দরে যাতায়াতকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে এই অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
২. ইসলামাবাদ বৈঠকের ব্যর্থতা ও ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ ম্যারাথন বৈঠক কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়ায় এই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, “ইরান তাদের পারমাণবিক আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে রাজি নয়। তাই এখন থেকে তাদের সকল বন্দর অবরোধ করা হবে।” তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা ইরানকে ‘অবৈধ টোল’ প্রদান করবে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের জাহাজও তল্লাশি করা হবে।
৩. হরমোজ প্রণালীতে মাইন অপসারণের ঘোষণা
অবরোধের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, তারা হরমোজ প্রণালীতে ইরানের পেতে রাখা সমুদ্র-মাইনগুলো ধ্বংস করতে শুরু করবে। মার্কিন নৌবাহিনী একে ‘বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পদক্ষেপ’ হিসেবে দাবি করলেও তেহরান একে সরাসরি যুদ্ধের উস্কানি হিসেবে দেখছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমোজ প্রণালীতে যেকোনো ‘ভুল পদক্ষেপের’ পরিণতি হবে ভয়াবহ।
৪. বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
এই অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে শেয়ার বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এশিয়ান স্টক মার্কেটগুলো আজ বড় পতনের মধ্য দিয়ে দিন শুরু করেছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে তেলের দাম ১২০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।
উপসংহার: ৪২ দিন আগে শুরু হওয়া ইউএস-ইরান যুদ্ধ এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করল। একদিকে রাশিয়ার নতুন মধ্যস্থতার প্রস্তাব, অন্যদিকে আমেরিকার এই নৌ-অবরোধ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।



















