close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

ই'স'রা'য়ে'লি বিমান হা'ম'লা'য় ২০ শিশুসহ নি'হ'ত ৬০..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ইরানের রাজধানী তেহরানের একটি আবাসিক এলাকায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ২০ শিশু সহ নিহত হয়েছে অন্তত ৬০ জন। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের অভিযানে অংশ নেয় ২০০ যুদ্ধবিমান। ইরান জানাল পাল্টা আঘাতের প্রস্তুত..

তেহরানের আকাশে সকাল নামেনি—নেমেছিল মৃত্যুর ছায়া। ইরানের রাজধানীর একটি আবাসিক ভবন কমপ্লেক্সে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৬০ জন মানুষ, যাদের মধ্যে ২০ জনই শিশু। গতকাল শুক্রবার ভোররাতে এই হামলার ঘটনা ঘটে, যা এখন পর্যন্ত ইরানভিত্তিক সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই হামলাকে কেন্দ্র করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক বিশেষ বুলেটিনে জানায়, ইসরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামে এই সামরিক অভিযান ছিল নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত এবং বহু ফ্রন্টে পরিচালিত। প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান একযোগে আকাশ থেকে তাণ্ডব চালায় এবং একশটিরও বেশি স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করে। লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যাটারি।

আবাসিক ভবনগুলো ছিল ভরে উঠা সাধারণ নাগরিক, শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাভাবিক জীবনে। বোমার শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ধ্বংসস্তূপের নিচে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা অনেককে উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগই শেষ নিঃশ্বাস নিয়েছেন রক্তমাখা ধ্বংসে চাপা পড়ে। হাসপাতালের করিডোর জুড়ে কান্নার শব্দ, আতঙ্ক আর রক্তাক্ত ছোট ছোট জুতা পড়ে আছে হতভাগ্য শিশুদের।

ইরানের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা একে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, "এই হামলার জবাব আসবে, অত্যন্ত কঠোরভাবে। ইসরায়েল যেন বুঝে নেয়—এই আগ্রাসনের মূল্য তাদের চোকাতে হবে।" প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, প্রতিশোধ নিতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।

ফার্স নিউজ এজেন্সি এবং আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, এর আগেও ইসরায়েলের দুই দফা হামলায় মোট ৭৮ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হন। নতুন এই তৃতীয় হামলায় নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসেবে ৬০ হলেও, বেসরকারি তথ্যে তা অনেক বেশি বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল কর্মীরা জানিয়েছেন, মৃতের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছে ৩৩০ জনেরও বেশি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, "এই অভিযান চলবে যতক্ষণ না ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হচ্ছে। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো, ইরান যেন ভবিষ্যতে আমাদের ওপর কোনো হুমকি তৈরি করতে না পারে।" তিনি আরো বলেন, "আমরা জানি আমাদের কী করতে হবে এবং আমরা তা করেই ছাড়বো।"

এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জাতিসংঘসহ বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া ইতোমধ্যে নিজেদের দূতাবাসগুলোতে সতর্কতা জারি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই সহিংসতা বন্ধে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী এক বিবৃতিতে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েল শুধু ভবন নয়, আমাদের মর্যাদায় আঘাত করেছে। আমরা এর জবাব ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেবো।”

Комментариев нет


News Card Generator