বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালির’ ওপর তেহরানের একক নিয়ন্ত্রণাধিকার নিয়ে বড় মন্তব্য করেছে রাশিয়া। জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া আজ এক বক্তব্যে সাফ জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তার স্বার্থে নিজের জলসীমায় জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ‘ভণ্ডামি’ ও ‘জলদস্যুতার’ গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
১. ‘জলদস্যু’ আখ্যা ও পশ্চিমা ভণ্ডামির সমালোচনা
জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে নেবেনজিয়া পশ্চিমা শক্তিগুলোর সমালোচনা করে বলেন, কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনের হামলায় সমর্থন দিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেরাই আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। তিনি বলেন, “পশ্চিমা দেশগুলো একদিকে জলদস্যুতা করছে, অন্যদিকে ইরানকে দোষারোপ করছে—এটি চরম ভণ্ডামি।” তাঁর মতে, যুদ্ধের সময় আক্রান্ত কোনো উপকূলীয় দেশ আত্মরক্ষার খাতিরে জাহাজ চলাচল সীমিত করার অধিকার রাখে।
২. সংকটের দিনলিপি: ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিল
হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী:
-
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হলে তেহরান কার্যত এই প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়।
-
১৩ এপ্রিল, ২০২৬: পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা নৌ-অবরোধ (Naval Blockade) আরোপ করে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।
৩. শান্তি আলোচনা ও বর্তমান অচলাবস্থা
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করেন। তবে ইসলামাবাদের প্রথম দফার শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। বর্তমানে দ্বিতীয় দফার আলোচনার চেষ্টা চললেও বড় কোনো অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
৪. ‘ফিরবে না পুরনো দিন’—ইরানের কড়া বার্তা
রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি নিয়ে ইরান ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালি আর কখনোই যুদ্ধ-পূর্ববর্তী বা ‘স্বাভাবিক’ অবস্থায় ফিরে যাবে না। অর্থাৎ, এই পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ইরান এখন থেকে স্থায়ী ও কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায়, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
রাশিয়ার এই প্রকাশ্য সমর্থন ইরানকে কূটনৈতিকভাবে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের এই ‘অধিকার’ যদি আন্তর্জাতিক মহলে প্রতিষ্ঠিত হয়, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতে আমেরিকার আধিপত্যকে চূড়ান্তভাবে চ্যালেঞ্জ করবে।



















