হরমোজ প্রণালীতে ইরানের ‘তুরুপের তাস’: কোণঠাসা ট্রাম্প ও রাশিয়ার বড় বার্তা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এক জরুরি বৈঠকে ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে ইরান দাবি করেছে..

হরমোজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এসেছে। ইরানের ‘কৌশলগত চালে’ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে এক জরুরি বৈঠকে ইরানের দেওয়া নতুন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে ইরান দাবি করেছে—আগে হরমোজ প্রণালী ও বন্দরগুলোর অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে, পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা হবে তার পরে।

১. হরমোজে ইরানের একক অধিকার: রাশিয়ার সমর্থন

রাশিয়া সরাসরি ঘোষণা করেছে যে, হরমোজ প্রণালীতে প্রথম অধিকার ইরানের। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান এখন বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে। রাশিয়ার এই অবস্থান ইরানকে কূটনৈতিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী করেছে। এখন থেকে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে বিশেষ টোল দিতে হতে পারে, যা আমেরিকার জন্য এক বড় পরাজয়।

২. ট্রাম্পের ‘অযোগ্যতা’ নিয়ে জার্মানির তোপ

জার্মানির চ্যান্সেলর সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেছেন যে, আমেরিকার কোনো ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে বলেন, আমেরিকার কূটনীতি আজ ব্যর্থ এবং ইরান বর্তমানে আমেরিকাকে আন্তর্জাতিক মহলে ‘হিউমিলিয়েট’ বা অপমান করছে। ২০ বছর আফগানিস্তানে এবং ইরাকে যে ভুল আমেরিকা করেছিল, ইরানেও তারা একই ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে।

৩. ইউ এন মহাসচিবের আর্তি: বিশ্ব অর্থনীতি থমকে গেছে

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “হরমোজ প্রণালী বন্ধ থাকার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি আজ শ্বাস নিতে পারছে না।” কোভিড-১৯ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের পর এটিই বিশ্বের সরবরাহ চেইনে (Supply Chain) সবচেয়ে বড় আঘাত। তিনি অবিলম্বে জাহাজ চলাচলের জন্য পথটি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নিত্যপণ্যের দাম ও খাদ্যসংকট কমানো যায়।

৪. ইরানের ‘তুরুপের তাস’ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা

বিশ্লেষক অভিসার শর্মা দেখিয়েছেন যে, ইরান এই যুদ্ধের প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সাজিয়েছে।

  • পয়সার খেলা: ইরান জানে যে যুদ্ধের চেয়েও আমেরিকার জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেক বেশি কষ্টকর।

  • হায়দার ১১০ (Haider 110): যদি ট্রাম্প পুনরায় হামলা করেন, তবে হরমোজ প্রণালীতে ধ্বংসলীলা চালাতে ইরানের কাছে রয়েছে বিশ্বের দ্রুততম ওয়ারবোট ‘হায়দার ১১০’।

  • সস্তা ড্রোন ও মাইন: দামি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে প্রতিহত করতে ইরান সস্তা ড্রোন এবং সামুদ্রিক মাইন ব্যবহার করছে, যা এই যুদ্ধকে আমেরিকার জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল করে তুলেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন এক কঠিন দ্বন্দ্বে আছেন। তিনি যদি ইরানের শর্ত মানেন, তবে তা হবে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় হার। আর যদি যুদ্ধ চালিয়ে যান, তবে বিশ্ব অর্থনীতি ধ্বংসের দায়ভার তাকেই নিতে হবে। ইরানের এই ‘তাসের খেলা’ আপাতত হোয়াইট হাউসের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

نظری یافت نشد


News Card Generator