গুলশান নিকেতনের জমি বিতর্ক: রাজউকের সম্পত্তিতে পার্ক নির্মাণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে..

Jahid sumon Crime Correspondent avatar   
Jahid sumon Crime Correspondent
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজধানীর গুলশান নিকেতনের একটি সরকারি জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ..

গুলশান নিকেতনের জমি নিয়ে অপপ্রচার: রাজউকের মালিকানাধীন সম্পত্তিতে হচ্ছে ‘নিকেতন লেডিস পার্ক’

 

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজধানীর গুলশান নিকেতনের একটি সরকারি জমি নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য ছড়ানোর ঘটনায় প্রকৃত অবস্থান স্পষ্ট করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আলোচিত জমিটি সম্পূর্ণভাবে রাজউকের অধিগ্রহণকৃত ও মালিকানাধীন সম্পত্তি। সেখানে জনস্বার্থে মহিলা ও শিশুদের জন্য ‘রাজউক নিকেতন লেডিস পার্ক’ নির্মাণের কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।

 

রাজউকের এস্টেট ও ভূমি-১ শাখার সহকারী পরিচালক মো. আশরাফ আলী ও কানুনগো মো. ইকবাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সোশাল মিডিয়ায় “রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত দখলদায়িত্ব” শিরোনামে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রেজোয়ানা হাসান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়। এতে দাবি করা হয়, তারা নাকি গুলশান নিকেতনে ৪২.২৭ শতক (সাড়ে ২৫ কাঠা) জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন।

রাজউক বলছে—এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

 

 

বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিতভাবে বলা হয়, সাবেক তেজকুনিপাড়া, বর্তমানে তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত মৌজা সিএস ৫৬৫ নম্বর দাগে মোট জমির পরিমাণ ৮৪.০৯ একর। এর মধ্যে এলএ কেস নম্বর ৫৫/১৯৫৮-৫৯, ১৩/২০০৭-০৮ ও ০২/২০০৯-১০ অনুযায়ী যথাক্রমে ২.৪৫৯৮ একর, ৬.০২২৬ একর এবং ৭১.৯৫৭০ একর—মোট ৮০.৪৩৯৪ একর জমি সরকারিভাবে রাজউকের অনুকূলে অধিগ্রহণ করে গেজেট প্রকাশ করা হয়।

অবশিষ্ট ৩.৬৫০৭ একর জমি ঢাকা ওয়াসার অনুকূলে এলএ কেস ৩১/১৯৯১-৯২ মূলে অধিগ্রহণ করা হয়, যা পরবর্তীতে হাতিরঝিল প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

রাজউকের ভাষ্য অনুযায়ী, অধিগ্রহণের পর থেকে আজ পর্যন্ত জমিটি নিরঙ্কুশভাবে রাজউকের দখল ও মালিকানায় রয়েছে। সম্প্রতি ওই জমির অংশবিশেষে (প্রায় ২৭ কাঠা) মহিলা ও শিশুদের বিনোদনের লক্ষ্যে ‘রাজউক নিকেতন লেডিস পার্ক’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন।

 

এ বিষয়ে গুলশান নিকেতনের বাসিন্দারা বলছেন, এলাকাটিতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো খেলার মাঠ বা পার্ক না থাকায় নারী ও শিশুদের জন্য বিনোদনের সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।

স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদা বলেন,

এখানে যদি পার্ক হয় আমাদের জন্য অনেক ভালো হবে। এলাকায় কোনো পার্ক নেই, বসার জায়গাও নেই। একটু সময় কাটাতে বা বাচ্চাদের নিয়ে বের হতে হলে অনেক দূরে যেতে হয়। রাজউক যদি সত্যিই পার্ক করে দেয়, তাহলে আমরা খুব উপকৃত হব।

আরেক বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন জানান,

আগে অনেকেই এই জায়গা দখল করে রাখছিল। সাধারণ মানুষ কাছে আসতে পারত না। এখন রাজউক কাজ শুরু করেছে—এটা আমাদের জন্য ভালো খবর। অন্তত জায়গাটা জনসাধারণের কাজে লাগবে।

 

এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অতীতে প্রভাবশালী মহল বিভিন্নভাবে জমিটি ঘিরে রাখলেও সাধারণ মানুষের জন্য কোনো সুবিধা ছিল না।

 

 ব্যবসায়ী মান্নান বলেন,

বিগত দিনে অনেকেই দখল করে রেখেছিল, আমরা কিছুই করতে পারিনি। এখন রাজউক এসেছে—এটা আমাদের জন্য অনেক ভালো। আশা করি আর কেউ দখল করতে পারবে না।

গৃহবধূ শিউলি আক্তার বলেন,আমাদের বাচ্চাদের খেলাধুলার কোনো জায়গা নেই। পার্ক হলে অন্তত নিরাপদ পরিবেশে মেয়েরা আর শিশুরা সময় কাটাতে পারবে।

 

 

রাজউক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানায়, জনস্বার্থে উন্নয়নমূলক কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই একটি মহল উদ্দেশ্যমূলকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সরকারি জমিতে পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ সম্পূর্ণ আইনসম্মত এবং এর সঙ্গে কোনো ব্যক্তিগত দখল বা সুবিধাভোগের বিষয় নেই।

 

রাজউক আশা প্রকাশ করেছে, প্রকৃত তথ্য জানার পর নগরবাসী বিভ্রান্ত হবে না এবং ‘রাজউক নিকেতন লেডিস পার্ক’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এলাকার নারী ও শিশুরা একটি নিরাপদ বিনোদন কেন্দ্র পাবে।

Walang nakitang komento


News Card Generator