ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সংবাদ সংগ্রহের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ইসরায়েলি বাহিনীর ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ। বুধবার গাজা সিটির পশ্চিমে উপকূলীয় আল-রশিদ সড়কে তাকে লক্ষ্য করে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। গাজায় গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের ধারাবাহিকতায় তিনি আরও একজন বলিদানকারী সাংবাদিক হিসেবে যুক্ত হলেন।
আল জাজিরা মোবাশার-এর প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত মোহাম্মদ উইশাহ বুধবার একটি গাড়িতে করে আল-রশিদ সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও আল জাজিরা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তার গাড়িটিতে আঘাত হানে। বিস্ফোরণের সাথে সাথেই গাড়িটিতে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী যুদ্ধে ইসরায়েল পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গাজা সরকারি মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, মোহাম্মদ উইশাহ নিহত হওয়ার পর উপত্যকাটিতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ২৬২ জনে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন বারবার গণমাধ্যমকর্মীদের সুরক্ষার আহ্বান জানালেও রণক্ষেত্রে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
মোহাম্মদ উইশাহর মৃত্যুতে আল জাজিরা নেটওয়ার্ক গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং একে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে অভিহিত করেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে। গাজায় চলমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও জীবন বাজি রেখে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার সাহসী ভূমিকার জন্য তাকে স্মরণ করছে বিশ্বজুড়ে তার সহকর্মীরা।
গাজায় লাশের মিছিল দীর্ঘ হতে হতে এখন গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানে পরিণত হয়েছে। একের পর এক সাংবাদিক নিহতের ঘটনা বিশ্ববাসীর কাছে গাজার প্রকৃত চিত্র পৌঁছানোর পথকে আরও সংকীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।



















