উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বগুড়া জেলার সর্ববৃহৎ কাঁচা সবজির বাজার মহাস্থান হাটে এখন সবজির উপচে পড়া ভিড়। শীতের সকালে কুয়াশাভেজা এই হাটে যতদূর চোখ যায়, শুধু সবুজ আর টাটকা সবজির সমারোহ। তবে এই প্রাচুর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দাম আকাশ থেকে মাটিতে আছড়ে পড়েছে। বিশেষ করে ফুলকপির দাম যে পর্যায়ে নেমেছে, তা কল্পনা করাও কৃষকদের জন্য কঠিন ছিল। প্রতি মণ ফুলকপি এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০ থেকে ১২০ টাকায়, যা কেজি প্রতি মাত্র ২ থেকে ৩ টাকা। অথচ মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই এই সবজি বিক্রি হয়েছে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা মণ দরে।
মহাস্থান হাটের এই মন্দা পরিস্থিতি কেবল ফুলকপিতেই সীমাবদ্ধ নেই। মুলা, পাতাকপি, শিম ও করলার দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কৃষকরা বলছেন, ভোরে যখন তারা ক্ষেত থেকে টাটকা সবজি নিয়ে হাটে আসেন, তখন তাদের চোখেমুখে লাভের স্বপ্ন থাকে। কিন্তু হাটের চিত্র পুরোই উল্টো। বাইরের জেলা থেকে বড় বড় পাইকাররা না আসায় এবং স্থানীয় বাজারে মজুত করার মতো কোনো হিমাগার বা আধুনিক ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকরা বাধ্য হয়ে পানির দরে পণ্য ছেড়ে দিচ্ছেন। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, মাঠ থেকে সবজি সংগ্রহ করে হাটে আনার পরিবহন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি তুলতেই কৃষকরা হিমশিম খাচ্ছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাজারে আমদানির তুলনায় রপ্তানি বা বড় মোকামগুলোতে সবজি পাঠানোর হার কমে গেছে। আড়তদাররা বলছেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে সবজির চাহিদাও এখন কিছুটা স্থবির। ফলে মহাস্থান হাটের অন্তত ৪০টি আড়তে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে সবজি। কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং সরকারি পর্যায়ে যথাযথ বাজার মনিটরিং না থাকায় তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই লোকসান কাটাতে না পারলে আগামী মৌসুমে সবজি চাষে আগ্রহ হারাবেন অনেক প্রান্তিক কৃষক, যা সামগ্রিক কৃষি অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।



















