ফরিদপুরে সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোর চক্রের ১২ সদস্য আটক, উদ্ধার ১৮টি ইজিবাইক..

Mia Shaykat avatar   
Mia Shaykat
মো: সৈকত হাসান, ফরিদপুর।


ফরিদপুরে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোর চক্রের মূল সদস্যসহ ১২ জনকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। বুধবার দুপুরে ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, জেলার বিভিন্ন ইজিবাইক পার্কিং এলাকা থেকে ধারাবাহিকভাবে চুরির ঘটনা ঘটছিল। ভুক্তভোগীদের একাধিক অভিযোগের পর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হয়। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। পরে ধারাবাহিক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ফরিদপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ইজিবাইক চুরি করে যন্ত্রাংশ খুলে আলাদা করত। শনাক্ত এড়াতে তারা রং পরিবর্তন, ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর বিকৃত এবং অবৈধ গ্যারেজে পুনরায় সংযোজন করে বিক্রি করত। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে তারা সংঘবদ্ধভাবে চুরি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানের অংশ হিসেবে ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি শরীয়তপুর ও মাগুরা জেলার বিভিন্ন স্থানেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে মোট ১৮টি চোরাইকৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয়েছে—এর মধ্যে ১৩টি সচল এবং ৫টি অচল। এছাড়া বিপুল পরিমাণ ইজিবাইকের যন্ত্রাংশ ও কাটার মেশিন জব্দ করা হয়েছে।
আটককৃতরা হলেন—মোজাম্মেল মণ্ডল, ইলিয়াস হোসেন, আবুল হোসেন মোল্লা, তানভীর শেখ, আওয়াল বিশ্বাস, বদিউজ্জামান মোল্লা, মৃদুল, মিলন খান, মো. আশরাফ, শহীদ শিকদার, জুয়েল রানা ও রনি মিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই পেশাদার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সমন্বয়ে এ সফল অভিযান পরিচালনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও ইজিবাইক চুরি রোধে নিয়মিত নজরদারি ও বিশেষ অভিযান চালানো হবে। পাশাপাশি পার্কিং এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator