রাষ্ট্রীয় একমাত্র গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-তে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের দোসররা ভোল পাল্টে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে । বিটিভির ঢাকা ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রের বর্তমান জেনারেল ম্যানেজারদের (জিএম) ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম-দুর্নীতি এবং রাতারাতি রাজনৈতিক আদর্শ পরিবর্তনের কারণে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে । অভিযোগ রয়েছে, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই কর্মকর্তারা চরম সুবিধাবাদীর পরিচয় দিয়ে বর্তমান সরকার ও বিএনপির নাম ভাঙিয়ে বিটিভিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন । বিশেষ করে বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের জিএম নুরুল আজম পবন এবং চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম ঈমাম হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির পাহাড় সমান অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে তারা বহাল তবিয়তে রয়েছেন ।
বিটিভি ঢাকা কেন্দ্রের জিএম নুরুল আজম পবন একসময় জাসদ (ইনু) রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি কট্টর বিএনপি সমর্থক সেজেছেন এবং তার ফেসবুক জুড়ে বিএনপি নেতাদের তোষামোদি করে প্রচারণা চালাচ্ছেন । তিনি পরিচালক (বার্তা) হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পরও নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে বাড়তি আয়ের নেশায় জিএম পদের অতিরিক্ত দায়িত্ব বাগিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে থাকাকালীন তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে ৭৭ জন শিল্পীকে তালিকাভুক্ত করা এবং নিজের ও ভাইয়ের নামে জাহাজের অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করেছেন বলে জানা যায় । আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি তার অবসরে যাওয়ার কথা থাকলেও, তিনি এলপিআরের সময় বিটিভিতে সরাসরি অফিস করার এবং পরবর্তী বিটিভি ডিজি হওয়ার জন্য জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন ।
এদিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জিএম ঈমাম হোসাইন, যিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, তিনি বিগত সরকারের সময় বড় বাজেটের প্রোগাম হাতিয়ে নিয়ে শেখ হাসিনার গুণকীর্তনে মগ্ন ছিলেন । অভিযোগ রয়েছে, ওবায়দুল কাদেরের প্রভাবে তিনি বিটিভিতে কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর, ন্যান্সি এবং বেবী নাজনীনের সংবাদ পর্যন্ত প্রচার করতে দিতেন না । অথচ বর্তমানে তিনি 'জামাত' সেজে চট্টগ্রামের জিএম পদ বাগিয়ে নিয়েছেন এবং এখন আবার নিজেকে বিএনপির লোক বলে পরিচয় দিচ্ছেন । দুর্নীতির টাকায় তিনি ফেনীতে নিজের গ্রামের বাড়িতে ডুপ্লেক্স বাড়ি বানাচ্ছেন এবং বিমানে যাতায়াত করলেও নিজের দুর্নীতি ঢাকতে ট্রেনের নন-এসি টিকিট সংগ্রহ করে রাখেন বলে সূত্র জানায় ।
বিটিভির এই অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বর্তমানে জিএম পদটি দখল করতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের মধ্যে "১০ কোটি টাকার ব্যাগ" নিয়ে এক ধরণের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। সৈয়দা তাসমিনা আহমেদ, মাহবুবা ফেরদৌস, ইমাম হোসেন এবং মনিরুল হাসানের মতো অভিযুক্ত কর্মকর্তারা এই পদের জন্য প্রভাবশালী মহলে তদবির চালাচ্ছেন। এদিকে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় মাহফুজা আক্তারকে ইতোমধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে। শিল্পী সমাজ ও আন্দোলনকারী সাংস্কৃতিক জোটগুলো হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তদন্তাধীন বা বিতর্কিত কোনো কর্মকর্তাকে জিএম পদে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা কঠোর কর্মসূচি পালন করবেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ঐতিহ্য ফেরাতে স্বচ্ছ ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করার দাবি এখন সর্বস্তরের নাগরিকদের।



















