এপস্টাইন ফাইলস ও পশ্চিমা নেতৃত্বের নৈতিক দেউলিয়াত্ব, কেন ইসলামই একমাত্র বিকল্প?..

আব্দুল্লাহ আল মামুন avatar   
আব্দুল্লাহ আল মামুন
পৃথিবী আজ এক অস্থির সময় পার করছে, আর এই অস্থিরতার একমাত্র নিরাময় মাওলানা নদভীর সেই কালজয়ী বার্তার মধ্যেই নিহিত মানবতার মুক্তি কেবল ইসলামের নেতৃত্বেই সম্ভব।..

সম্প্রতি প্রকাশিত 'এপস্টাইন ফাইলস' বিশ্বজুড়ে এক কম্পন সৃষ্টি করেছে। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট থেকে শুরু করে প্রভাবশালী বিলিয়নেয়ার এবং রাজপরিবারের সদস্যদের নাম উঠে এসেছে এই কলঙ্কিত তালিকায়। কিন্তু এটি কি কেবলই ব্যক্তিগত কোনো চারিত্রিক স্খলন, নাকি একটি পচনশীল ব্যবস্থার অনিবার্য বহিঃপ্রকাশ? মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.)-এর সেই বিখ্যাত গ্রন্থ "মুসলিমদের পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো"-এর দর্শনে তাকালে আজ এই ধ্বংসাত্মক চিত্রটি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জেফরি এপস্টাইনের ব্যক্তিগত দ্বীপ 'লিটল সেন্ট জেমস' আজ বিশ্ববাসীর কাছে আধুনিক জাহেলিয়াত বা বর্বরতার এক প্রতীক। যেখানে নাবালিকা ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ওপর চালানো হতো পৈশাচিক নির্যাতন। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বলয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তারা যারা বিশ্বকে তথাকথিত ‘মানবাধিকার’ ও ‘গণতন্ত্রের’ ছবক দেয়। ক্লিনটন থেকে ট্রাম্প—আমেরিকার শীর্ষ নেতৃত্বের এই নৈতিক অধঃপতন প্রমাণ করে যে, যে ব্যবস্থার ভিত্তিই নড়বড়ে, তা কখনো বিশ্বকে সুস্থ নেতৃত্ব দিতে পারে না।

বিশেষ করে রিপাবলিকান পার্টির মতো রক্ষণশীল ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ধ্বজাধারীদের এই কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া এক চরম পরিহাস। বাইবেল ও তৌরাতের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করা এই গোষ্ঠীর যখন এই অবস্থা, তখন ধর্মনিরপেক্ষ বা নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠীর কাছে উচ্চ নৈতিকতা আশা করা নিছক বোকামি। মাওলানা নদভী তাঁর বইয়ে যেমনটি বলেছিলেন—পশ্চিমা সভ্যতা আজ এমন এক ‘বিষাক্ত কাচের বোতল’, যার ভেতরে শ্বাস নেওয়া প্রত্যেকটি মানুষ অজান্তেই সেই বিষাক্ত গ্যাস নিজের ভেতরে টেনে নিচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও রাজনীতি সবই আজ পুঁজিবাদের স্বার্থে কলুষিত।

এই নৈতিক ও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারির মহাসমুদ্রে দাঁড়িয়ে একটি প্রশ্ন বড় হয়ে ওঠে এত পচনের পরও কেন ইসলামই বারবার পশ্চিমা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু হয়? উত্তরটি সহজ। ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান (Complete Code of Life), যা এই দূষিত কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

  • ব্যক্তিগত পবিত্রতা: ইসলাম ব্যক্তিকে যে চারিত্রিক পবিত্রতা ও তাকওয়ার শিক্ষা দেয়, তা এপস্টাইনদের মতো শোষকদের বাজার বন্ধ করে দেয়।

  • সামাজিক বিচার: ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সমাজব্যবস্থা কোনোভাবেই নারী ও শিশুদের পণ্য হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ দেয় না।

  • আপসহীন বিধান: ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ আইনকে কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বা পুঁজিপতি তাদের নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে না।

মাওলানা আবুল হাসান আলী নদভী (রহ.) অকাট্য যুক্তিতে প্রমাণ করেছিলেন যে, মুসলমানদের নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়া শুধু একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ক্ষতি নয়, বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আজ যদি বিশ্বজুড়ে ইসলামের সেই ইনসাফপূর্ণ শাসন ও নৈতিক ভিত্তি কার্যকর থাকতো, তবে এপস্টাইনের মতো অপরাধীদের সিন্ডিকেট গড়ে ওঠা সম্ভব হতো না।

অন্ধকারের গর্ভ থেকে যেমন আলো জন্ম নিতে পারে না, তেমনি এই বিষাক্ত ও পচা ব্যবস্থার ভেতর থেকে কোনো সংস্কার সম্ভব নয়। আজকের এই নৈতিক বিশৃঙ্খলা ও সভ্যতার দূষণ থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো—সেই 'বিষাক্ত কাচের বোতল' ভেঙে ফেলে ইসলামের নির্মল ও পবিত্র বাতাসের দিকে ফিরে আসা। পৃথিবী আজ এক অস্থির সময় পার করছে, আর এই অস্থিরতার একমাত্র নিরাময় মাওলানা নদভীর সেই কালজয়ী বার্তার মধ্যেই নিহিত মানবতার মুক্তি কেবল ইসলামের নেতৃত্বেই সম্ভব।

Nema komentara


News Card Generator