ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার? ইরানের ১০ দফা শর্ত মেনে নিয়ে দুই সপ্তাহের ‘সিজফায়ার’..

আব্দুল্লাহ আল মামুন avatar   
আব্দুল্লাহ আল মামুন
যুদ্ধের কারণে ইরান এটি বন্ধ করে দিয়েছিল এবং এখন নিজেদের শর্তে তা পুনরায় দুই সপ্তাহের জন্য খোলার অনুমতি দিচ্ছে। এর বিনিময়ে আমেরিকাকে অনেক বড় মূল্য চুকাতে হচ্ছে।..

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ কি তবে সমঝোতার দিকে মোড় নিচ্ছে? সামরিক বিশেষজ্ঞ মেজর গৌরব আর্যের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের দেওয়া ১০টি কঠিন শর্তের ওপর ভিত্তি করে দুই সপ্তাহের এক সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা ‘সিজফায়ার’ (Ceasefire) মেনে নিয়েছেন। তবে এই সমঝোতাকে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক পরাজয় হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।

  • ট্রাম্পের তথাকথিত বিজয় ও বাস্তবতা: ট্রাম্প দাবি করছেন যে তিনি হরমোজ প্রণালী (Strait of Hormuz) খুলে দিতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ২৭ ফেব্রুয়ারির আগে এই প্রণালী এমনিতেই খোলা ছিল। যুদ্ধের কারণে ইরান এটি বন্ধ করে দিয়েছিল এবং এখন নিজেদের শর্তে তা পুনরায় দুই সপ্তাহের জন্য খোলার অনুমতি দিচ্ছে। এর বিনিময়ে আমেরিকাকে অনেক বড় মূল্য চুকাতে হচ্ছে।

  • চীনের কূটনৈতিক জয়: মেজর আর্য মনে করেন, এই যুদ্ধের প্রকৃত বিজয়ী দেশ হলো চীন। ইরান বর্তমানে চীনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল এবং বিশ্ববাজারের প্রায় ৩২ শতাংশ জ্বালানি প্রবাহের নিয়ন্ত্রণ এখন চীনের পরোক্ষ কমান্ডে চলে গেছে। ট্রাম্প আগামী মে মাসে চীন সফরে যাচ্ছেন এবং সেখানে তিনি একজন ‘পরাজিত’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে নেগোসিয়েশন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

  • ইরানের ১০টি কঠোর শর্ত: ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে ১০ দফা দাবিনামা পাঠিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

    1. ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না করার গ্যারান্টি।

    2. হরমোজ প্রণালীর ওপর সম্পূর্ণ ইরানি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।

    3. পারমাণবিক কর্মসূচি বা ইউরেনিয়াম এনরিচমেন্টের অধিকার।

    4. ইরানের ওপর থেকে সমস্ত প্রাথমিক ও সেকেন্ডারি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।

    5. মধ্যপ্রাচ্য থেকে সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়া।

    6. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমেরিকা ও ইসরায়েলের কাছ থেকে বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ (Reparations)।

    7. হামাস, হিজবুল্লাহ এবং হুতিদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া।

মেজর আর্য অভিযোগ করেছেন যে, পাকিস্তান এই যুদ্ধে আমেরিকার ‘কুরিয়ার বয়’ (Courier Boy) হিসেবে কাজ করছে। তিনি মনে করেন, পাকিস্তান নিজেদের স্বার্থে কখনো আমেরিকার কাছে আবার কখনো চীনের কাছে বিক্রি হচ্ছে। এই সমঝোতার ফলে পাকিস্তান মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিকভাবে আরও একঘরে (Isolate) হয়ে পড়তে পারে।

এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে নাকি এটি আরও বড় কোনো প্রলয়ংকরী ঝড়ের পূর্বাভাস, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আপাতত ইরানের দাপটের কাছে সুপারপাওয়ার আমেরিকার নতজানু হওয়া বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

نظری یافت نشد


News Card Generator