‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- স্লোগানটি ঈমান পরিপন্থী: মাওলানা ইউসুফী..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- স্লোগানটি ঈমান পরিপন্থী: মাওলানা ইউসুফী..
‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’- স্লোগানটি ঈমান পরিপন্থী: মাওলানা ইউসুফী..
Maulana Abdur Rob Yousufi, Senior Vice President of Jamiat Ulamaye Islam Bangladesh, has stated that the slogan “Religion belongs to each, festivals to all” contradicts faith. He emphasized that while..

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ স্লোগান ঈমান পরিপন্থী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি নাগরিক তার নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রাখে, তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্য ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে পাহারা দেওয়া মুসলমানদের দায়িত্ব নয়।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

মাওলানা ইউসুফীর এই বক্তব্য ইতিমধ্যেই সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক তার নিজ নিজ ধর্ম পালন করার পূর্ণ স্বাধীনতা রাখে। তারা রাষ্ট্রীয় আইন মেনে চলেন এবং রাষ্ট্রকে ট্যাক্স প্রদান করেন। সেই সূত্রে রাষ্ট্রের উপর দায়িত্ব বর্তায় প্রতিটি নাগরিকের জান-মাল, সম্মান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখা।

তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, একজন মুসলমানের ওপর অন্য ধর্মাবলম্বীদের উপাসনালয় পাহারা দেওয়ার কোনো ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নেই। বরং সেটি অন্য ধর্মের ধর্মীয় কার্যক্রমে সরাসরি সহযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থনযোগ্য নয়।

মাওলানা ইউসুফী অতীতের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গত বছর ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে আলেম সমাজ হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য প্রশাসনকে সহায়তা করেছিল। কারণ তখন প্রশাসনিক ব্যবস্থার কিছু সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু তিনি এবার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আলেম সমাজের বা মুসলমানদের হিন্দুদের মন্দির পাহারা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তবে তিনি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে বলেন, আলেম সমাজকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। যেন কোনো কুচক্রী মহল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে হামলা বা নাশকতা চালিয়ে দেশে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের মূল দায়িত্ব হলো প্রতিটি নাগরিককে তাদের নিজ ধর্মীয় অনুশীলনে নিরাপত্তা প্রদান করা। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—সবাই যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালন করতে পারে, সেটিই রাষ্ট্র ও প্রশাসনের কর্তব্য।

মাওলানা ইউসুফীর এই বক্তব্য সামনে আসতেই দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, তার এই মন্তব্য বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সামাজিক প্রেক্ষাপটকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। আবার অন্য মহল মনে করছে, তার বক্তব্য ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সঠিক হলেও, বাস্তবতার কারণে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও নাগরিক চেতনার বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচনা করতে হবে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে ধর্মীয় সহাবস্থান বজায় রাখতে হলে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে আরো দৃঢ় হতে হবে। একইসঙ্গে ধর্মীয় নেতাদেরও দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়া জরুরি, যাতে কোনো গোষ্ঠী বিভ্রান্তির সুযোগ না পায়।

বাংলাদেশের সংবিধান প্রতিটি নাগরিককে তার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের নিশ্চয়তা দিলেও, বাস্তবে প্রশাসনিক তৎপরতা কতটা কার্যকর তা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন রয়েছে। ইউসুফীর এই বক্তব্য তাই নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন প্রতিটি নাগরিক তার ধর্ম নিরাপদে পালন করতে পারে এবং দেশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় থাকে।

No comments found


News Card Generator