ডাকসুর কেন্দ্রে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা, সরিয়ে দিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা..

আই নিউজ বিডি ডেস্ক  avatar   
আই নিউজ বিডি ডেস্ক
ডাকসুর কেন্দ্রে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা, সরিয়ে দিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা..
ডাকসুর কেন্দ্রে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা, সরিয়ে দিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা..
In the Dhaka University Ducsu election, candidates were removed from polling centers for directly soliciting votes. Despite disciplinary issues, the campus is buzzing with a festive atmosphere in Bang..

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সরাসরি ভোট চাইতে গিয়ে প্রার্থীদের সরিয়ে দিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। শৃঙ্খলাভঙ্গের মধ্যেও উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে দেশের সবচেয়ে বড় ছাত্র নির্বাচন।

মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)

সরাসরি কেনাকাটা করুন
সবগুলো দেখুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে আজ সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভোট দেওয়ার উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। সকাল আটটা বাজতেই বিভিন্ন হলে ও কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে আসেন শিক্ষার্থীরা। কিন্তু ভোটগ্রহণ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রার্থীদের আচরণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক প্রার্থী ও তাদের কর্মীরা সরাসরি ভোট চাইতে শুরু করেন। কেউ কেউ আবার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের হাতে লিফলেট ও পরিচয়পত্রও তুলে দেন। এতে কেন্দ্রের শৃঙ্খলা ব্যাহত হয় এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভোটকেন্দ্রের ভেতরে বা আশপাশে কোনোভাবেই প্রার্থীরা ভোট চাইতে পারবেন না। তাদের অন্তত ১০০ মিটার দূরে থাকতে হবে। নিয়ম ভাঙলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ সময় কয়েকজন প্রার্থীকে কেন্দ্র থেকে সরিয়েও দেওয়া হয়।

এবারের নির্বাচনে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮টি কেন্দ্রে চলছে ভোটগ্রহণ, যা সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে আরও ২৩৪টি পদের জন্য লড়ছেন ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী। একজন ভোটারকে ডাকসুর জন্য ৫টি ব্যালট এবং হল সংসদের জন্য ১টি ব্যালটে ভোট দিতে হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সর্বমোট ৪১টি ভোট দিতে হচ্ছে।

এত বিস্তৃত ও জটিল প্রক্রিয়ার কারণে এই নির্বাচনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অনন্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি কেবল একটি ছাত্র নির্বাচন নয়; বরং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশক।

দিনভর শৃঙ্খলাভঙ্গের কিছু অভিযোগ উঠলেও সামগ্রিক পরিবেশ ছিল উৎসবমুখর। শিক্ষার্থীরা গান, পোস্টার, ব্যানার আর স্লোগানে মুখর করে তোলে ক্যাম্পাস। অনেকেই একে “ভবিষ্যতের জাতীয় নির্বাচনের মহড়া” হিসেবে অভিহিত করছেন।

দীর্ঘ বিরতির পর ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হওয়া এ আগ্রহ প্রমাণ করে, শিক্ষার্থীরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার প্রতি তাদের প্রবল আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কড়া নজরদারির ফলে নির্বাচন মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবেই চলছে বলে জানান পর্যবেক্ষকরা।

সব মিলিয়ে ডাকসুর এ নির্বাচনকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য ইতিবাচক একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ থাকলেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের সরব অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার প্রমাণ দিচ্ছে।

 

कोई टिप्पणी नहीं मिली


News Card Generator