ডাকসুর জিএস নির্বাচনে গোলাম রাব্বানীর প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা হলে রাশেদ খানকে বৈধভাবে জিএস ঘোষণা করা হতে পারে। দীর্ঘ ছয় বছর পর ন্যায়বিচারের আশায় তিনি অপেক্ষায় আছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতিতে আবারও বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে ডাকসু নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদন। দীর্ঘ ছয় বছর আগে অনুষ্ঠিত ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও তার প্রার্থিতাকে অবৈধ ঘোষণা করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। আর সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে জিএস হতে পারেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোলাম রাব্বানীর এম.ফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়নি। ফলে তার ছাত্রত্ব বৈধ ছিল না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট ইতোমধ্যে তার ভর্তি সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। বৈধ ছাত্রত্ব না থাকায় তার প্রার্থিতা অবৈধ ছিল বলে জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। এর ফলে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে রাব্বানীর বিজয় আইনি প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে লাভবান হতে পারেন রাশেদ খান। কারণ সেই নির্বাচনে জিএস পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন তিনিই। ছাত্রলীগের প্রার্থী গোলাম রাব্বানী পেয়েছিলেন ১০ হাজার ৪৮৪ ভোট, আর রাশেদ খান পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৬৩ ভোট। যদি গোলাম রাব্বানীর প্রার্থিতা বাতিল হয়, তবে নিয়ম অনুসারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থী রাশেদ খানকে বৈধভাবে জিএস হিসেবে ঘোষণা করার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিলের খবরে ইতোমধ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন রাশেদ খান। তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় পর হলেও আমি ন্যায়বিচার পেতে যাচ্ছি। গোলাম রাব্বানী শিক্ষার্থীদের ভোটে জিএস নির্বাচিত হয়নি। শিক্ষার্থীরা ছাত্রলীগকে পছন্দ করতেন না। সেই নির্বাচনে আমাদের প্যানেল ১১টি পদে জয়ী হলেও মাত্র দুই পদে আমাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছিল।”
রাশেদ আরও যোগ করেন, “আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই। তারা আমার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এবার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”
তদন্ত প্রতিবেদনে শুধু রাব্বানীর ভর্তি অনিয়ম নয়, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। ভোট কেন্দ্র দখল, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা, ব্যালট পেপারে জালিয়াতি, কৃত্রিম লাইন সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অভিযোগকে প্রতিবেদনে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে ভাইস-প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদে জয়ী হয়েছিলেন নুরুল হক নুর। তিনি পেয়েছিলেন ১১ হাজার ৬২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, যিনি পেয়েছিলেন ৯ হাজার ১২৯ ভোট।
এরপর থেকে ডাকসু নির্বাচন ও এর বৈধতা নিয়ে বিতর্ক থামেনি। এবার গোলাম রাব্বানীর ভর্তি বাতিলের ঘটনায় সেই বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশ সিন্ডিকেটে গৃহীত হলে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক পদে রাশেদ খানই হতে পারেন শিক্ষার্থীদের বৈধ প্রতিনিধি। ছয় বছর পরও তিনি ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।