ডা. কামরুলের হাসপাতালে চাঁদা দাবি: মূলহোতা মঈনসহ গ্রেফতার ৭..

আব্দুল্লাহ আল মামুন avatar   
আব্দুল্লাহ আল মামুন
সিকেডি হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মামলার প্রধান আসামি মঈনসহ মোট সাতজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।..

রাজধানীর শ্যামলীর সেন্টার ফর কিডনি ডিসিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন (মঈন) ও তার ৬ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে র‍্যাব-২ ও র‍্যাব-৪-এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

১. র‍্যাবের নিশ্চিতকরণ ও আসামিদের পরিচয়

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সিকেডি হাসপাতালে চাঞ্চল্যকর চাঁদাবাজি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মামলার প্রধান আসামি মঈনসহ মোট সাতজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:

  • মঈন উদ্দিন (মঈন): সাবেক যুবদল নেতা ও মামলার ১ নম্বর আসামি।

  • মো. ফালান মিয়া (৪২)

  • মো. রুবেল (৪২)

  • মো. সুমন (৩৬)

  • মো. লিটন মিয়া (৩৮) (বাকি দুই আসামির নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি)।

২. মামলার প্রেক্ষাপট ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি

সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ইনচার্জ আবু হানিফ বাদী হয়ে গত ১১ এপ্রিল শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে আবু হানিফের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

৩. বাসায় হামলা ও হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল সকালে মঈন ও তার দলবল আবু হানিফের শ্যামলীর বাসায় গিয়ে তার স্ত্রীর কাছে দ্রুত ৫ লাখ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্চস্বরে গালিগালাজ ও বিশৃঙ্খলা শুরু করে। পরবর্তীতে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক জড়ো করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা হাসপাতালের পরিবেশ অস্থিতিশীল করার পাশাপাশি হাসপাতালের মালিক বিশিষ্ট চিকিৎসক মো. কামরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ও হুমকিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টে প্রবেশের চেষ্টা করলে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

৪. পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ

র‍্যাব জানিয়েছে, আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সিকেডি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই গ্রেফতারের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও তৎপরতা দাবি করেছে।

রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বিশেষায়িত হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনাটি চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। র‍্যাবের এই দ্রুত অভিযান অপরাধীদের প্রতি একটি কড়া বার্তা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Nema komentara


News Card Generator