চট্টগ্রাম-৪ আসনে মূল লড়াই দুই চৌধুরীর, ফ্যাক্টর তরুণ ভোটার
মোহাম্মদ জামশেদ আলম
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আংশিক এলাকা) আসনে নির্বাচনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন তরুণ ভোটাররা। তরুণ ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং ঘরে ঘরে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তরুণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে আগ্রহী যিনি এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন। স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও এই আসনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। দীর্ঘ সময়ের এই প্রচারণার ফলে তার নাম ও নির্বাচনি প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ভোটারদের মধ্যে পরিচিতি পেয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী এফসিএ সব সময় এলাকার জনগণের সুখ-দুঃখে সম্পৃক্ত থাকার কারণে এবং দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারান্তরীর থাকায় তার উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা রয়েছে বলে ভোটারদের অভিমত। যদিও আগাম প্রচারণার কারণে আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বর্তমানে কিছুটা এগিয়ে রয়েছেন বলে অনেকে ধারণা করছেন, তবে সাম্প্রতিক সময়ে আসলাম চৌধুরীর সক্রিয় মাঠপর্যায়ের প্রচারণায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জোরালো হচ্ছে।
এদিকে, কয়েকটি এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর মহিলা কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই উত্তেজনা ভোটকেন্দ্র পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে। অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনি প্রচারণা তুলনামূলকভাবে কম দৃশ্যমান বলে ভোটারদের একটি অংশ মত প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ড উপজেলাধীন একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়ন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আকবর শাহ ও পাহাড়তলী থানার আংশিক এলাকা নিয়ে চট্টগ্রাম-৪ সংসদীয় আসন গঠিত।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারে এই আসনে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ১৬ হাজার ৬৯ জন। মোট ভোটার ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৪০৯ জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১২ জন এবং পোস্টাল ব্যালট ভোটার ৫ হাজার ১৩৯ জন এবং ভেটে কেন্দ্র ১২৪টি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—
ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মাওলানা দিদারুল মাওলা, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের এ টি এম পারভেজ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে প্রতীকের মছিউদ্দৌলা, গণসংহতি আন্দোলনের মাথাল প্রতীকের ইঞ্জিনিয়ার জাহিদুল আলম, ইসলামিক ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতীকের মো. সিরাজউদ্দৌলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির একতারা প্রতীকের শহীদুল ইসলাম চৌধুরী এবং নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী জাকারিয়া।



















