close

কমেন্ট করুন পয়েন্ট জিতুন!

চট্টগ্রাম-৪ আসনে জমে উঠেছে দুই চৌধুরী'র ভো‌টের লড়াই

MOHAMMAD JAMSHED ALAM avatar   
MOHAMMAD JAMSHED ALAM
চট্টগ্রাম-৪ আসনে জমে উঠেছে দুই চৌধুরী'র ভো‌টের লড়াই
চট্টগ্রাম-৪ আসনে জমে উঠেছে দুই চৌধুরী'র ভো‌টের লড়াই
 
মোহাম্মদ জাম‌শেদ আলম,
সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি :
 
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও আংশিক পাহাড়তলী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সরগরম হয়ে উঠছে পুরো এলাকা। মাঠে সক্রিয় রয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা।
তবে স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে দুই প্রভাবশালী প্রার্থীর মধ্যে। তারা হলেন বিএনপি'র মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এবং জামায়াতে ইসলামী ম‌নোনীত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন বিএনপির হেভিওয়েট নেতা আসলাম চৌধুরী। অপরদিকে দাড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের তরুণ নেতা আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী। এছাড়া এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা কারী দিদারুল মাওলা, গণ অধিকার পরিষদের এটিএম পারভেজ, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. সিরাজউদ্দৌলা, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী, সিপিবির মছিউদ্দৌলা, গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম এবং নেজামে ইসলাম পার্টির জাকারিয়া খালেদ।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সীতাকুণ্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৫ হাজার ৩৫০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ১৫ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১১ জন।
‌বিগত ৩‌টি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগে বঞ্চিত ভোটাররা এবার একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় মুখিয়ে রয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটকেন্দ্রমুখী হওয়ার আগ্রহ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে সীতাকুণ্ডের রাজনীতিতে অ‌তি পরিচিত মুখ। তি‌নি বর্তমা‌নে বিএন‌পি'র চেয়ারপার্সনের উপ‌দেষ্ঠা প‌রিষ‌দের সদস‌্য এবং কেদ্রীয় ক‌মি‌টির সা‌বেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ছি‌লেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি সীতাকুণ্ড বিএনপি'র সাংগঠনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছেন। তবে এবারের নির্বাচনে শুরুতে উত্তর জেলা বিএনপি'র সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী‌ মো: সালাউদ্দিনকে প্রাথ‌মিক মনোনয়ন দেওয়ায় দলের একটি অংশে অসন্তোষ দেখা দেয়। আসলামপন্থী নেতাকর্মীরা তখন মহাসড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পরবর্তীতে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীর নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও দলীয় ভেতরের এই বিভাজন নির্বাচনী সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। 
গত বৃহস্পতিবার ফৌজিদারহাট এলাকায় পারিবারিক কবর জিয়ারতসহ বি‌ভিন্ন অ‌লি-আও‌লিয়া‌দের মাজার জিয়ারত ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
অন্যদিকে বিএনপি'র প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী। ছাত্র শিবিরের রাজনীতি থেকে উঠে আসা এই তরুণ নেতা বর্তমানে উত্তর জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তরুণ ভোটারদের সমর্থনই তার বড় শক্তি। জামায়াতের সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী ও নারী ভোটারদের সমর্থনের ওপর ভর করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। বৃহস্পতিবার সীতাকুণ্ড দক্ষিণ বাইপাস এলাকা থেকে বিশাল মিছিলের মাধ্যমে নিজের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন ও গণ অধিকার পরিষদসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের দাবি, ভোটাররা যদি প্রচলিত দুই বড় রাজনৈতিক শক্তির বাইরে বিকল্প নেতৃত্ব খোঁজেন, তবে তারা উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে পারেন।
চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার ও শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত সীতাকুণ্ড আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়ভাবে একটি ধারণা প্রচলিত রয়েছে—এই আসনে যে দল জয়লাভ করে‌ছে, অতীতে সেই দলই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতেও এ আসনের ফলাফল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে পুরো সীতাকুণ্ড এখন নির্বাচনী উত্তাপে সরগরম হয়ে উঠেছে।
Nessun commento trovato


News Card Generator