বৃষ্টির মতো ঝড়ছে কুয়াশা। দুপুরের দিকে স্বল্প সময়ে সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা যেন কমছেই না।
বুধবার (৭ জানুয়ারি)ভোরের দিকে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কুয়াশার সঙ্গে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা। বেলা বৃদ্ধির পর সূর্য উঁকি দিলেও ঠান্ডার অনুভূতি একই রকম থেকে যাচ্ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৬ শতাংশ। যা ঠান্ডার অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এ শীতে ঠান্ডার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা ভ্যানচালকসহ কৃষিজীবি ও শ্রমজীবী মানুষেরা। ভোরের দিকে কাজের সন্ধানে বের হতে না পারায় অনেকেরই দৈনন্দিন রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে জীবিকার চাপ ও দুর্ভোগ। ঠান্ডা থেকে পরিত্রাণ পেতে অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে তাপ নিচ্ছেন। সড়কগুলোতে দূরপাল্লার গাড়ীসহ ছোট ছোট গাড়িগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে।
উপজেলার ১নং নশরতপুর ইউপির রানীরবন্দর বাসট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশাচালক জাকির হোসেন বলেন, ‘কুয়াশার কারণে লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তারপরও সামনে ঠিকমতো দেখা যায় না। ঠান্ডার কারণে মানুষজন ঘর থেকে বের হচ্ছে না। তাই যাত্রীও কম।’
উপজেলার ৩নং ফতেজংপুর ইউপির দিনমজুর কাইয়ুম মোল্লা বলেন, ‘সকালে কাজে বের হতে খুব কষ্ট হয়। এত ঠান্ডায় শরীর অবস হয়ে যায়। কাজ না করলে সংসার চলে না, আবার এ শীতে কাজ করাও কঠিন।’
এদিকে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারগুলোতেও। উপজেলার ফুটপাত থেকে শুরু করে মার্কেটসহ বিভিন্ন বিপণিবিতানে গরম কাপড়ের দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতাদের ভিড়। সোয়েটার, জ্যাকেট, মাফলার, টুপি ও শীতবস্ত্র কিনতে দেখা যাচ্ছে নানা বয়সি মানুষকে।’
চিরিরবন্দর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ শফিউল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলায় সরকারিভাবে ৩ হাজার ১ শতটি কম্বল বরাদ্দ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ, এতিমখানা ও বেশ কিছু কম্বল উপজেলা নিবার্হী অফিসার ইউএনও মহোদয় শীতার্ত মানুষদের মাঝে বিতরণ করেন।’
দিনাজপুর আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে তাপমাত্রা কমে গেছে। আগামী কয়েক দিন সকাল ও রাতের দিকে শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ঘন কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে শীতের কারণে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকেরা গরম পোশাক ব্যবহার, উষ্ণ খাবার গ্রহণ এবং শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।



















