চাঁদপুর শহরের স্বর্ণখোলা এলাকায় অবস্থিত পৌরসভার বর্জ্য ফেলার স্থানটি বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক অদৃশ্য যন্ত্রণার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকযোগে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য এখানে এনে স্তূপ করা হয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে পচে সৃষ্টি করছে অসহনীয় দুর্গন্ধ। বর্জ্যের পরিমাণ কমাতে প্রায়শই এতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যার ফলে নির্গত বিষাক্ত কালো ধোঁয়া পুরো এলাকাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকার কেন্দ্রস্থলে এমন একটি ভাগাড় দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান থাকায় কয়েক হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে গরমের মৌসুমে বাতাসের প্রবাহ বাড়লে এই দুর্গন্ধ ও ধোঁয়ার তীব্রতা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ হয়ে দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্বর্ণখোলা এলাকাটি বর্তমানে একটি ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে পরিণত হলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোনো আধুনিকায়ন করা হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রনি জানান, ময়লা পোড়ানোর সময় চারপাশের বাতাস ভারী হয়ে ওঠে, যার ফলে তীব্র শ্বাসকষ্ট ও চোখ জ্বালাপোড়ার মতো শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন শিশু ও বয়স্করা। ব্যবসায়ী ইসহাক ও ভবন মালিক আবু ফাহাদ হোসেনের মতে, এই পরিবেশের কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি নতুন ভাড়াটিয়া পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার স্বাস্থ্যঝুঁকির ভয়ে এলাকা ছাড়ার কথা ভাবছেন। আবাসিক এলাকায় এমন একটি ভাগাড়ের উপস্থিতি যে জনস্বাস্থ্যের ওপর কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, তা স্থানীয়দের প্রতিদিনের এই দুর্দশাই স্পষ্ট করে তুলছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা এই পরিস্থিতিকে জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দ্রুত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন। বিপরীতে, চাঁদপুর পৌরসভার প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. এরশাদ উদ্দিন জানিয়েছেন যে, ভাগাড়টি অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে এবং এর জন্য উপযুক্ত বিকল্প জায়গা খোঁজা হচ্ছে। তবে উপযুক্ত স্থান নির্বাচনের জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে স্থানীয়দের ভোগান্তি নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারেননি তিনি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি করছে।
পরিশেষে, স্বর্ণখোলার এই ময়লার ভাগাড়টি কেবল একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি অপরিকল্পিত নগরায়ণের একটি প্রকট উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগের মতো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রশাসনের উচিত দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাগাড়টি জনবসতি থেকে দূরে স্থানান্তর করা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো। শহরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্জ্য অপসারণের এই দাবি এখন আর কেবল আবেদন নয়, বরং তা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি জরুরি ও অপরিহার্য দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে।