জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা সরকার কীভাবে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করবে—এ নিয়ে জনগণের শঙ্কা বাড়ছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ একটি সরকার কীভাবে জাতীয় সংসদের মতো বৃহৎ নির্বাচন আয়োজন করবে—এ প্রশ্ন তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের। তিনি মনে করেন, সরকারের বর্তমান ব্যর্থতা এবং অদক্ষতা আগামী নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও সুষ্ঠু পরিবেশকে গভীরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
রোববার (৩১ আগস্ট) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাহের এসব মন্তব্য করেন। তার মতে, দেশবাসী এখন দখলদার ও চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের ভোগান্তিতে জর্জরিত। আগে যেসব গোষ্ঠী বিভিন্ন জায়গায় আধিপত্য বিস্তার করতো, এখন নতুন গোষ্ঠী এসে সেসব স্থান দখল করছে। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যখন সরকার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধ করতে পারছে না, তখন এত বড় একটি জাতীয় নির্বাচন তারা কীভাবে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবে?”
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তাহের বলেন, “এখনো কিছুটা সময় আছে। যদি সরকার সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। আর পরিস্থিতির উন্নতি হলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা যাবে।”
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন উল্লেখ করে তাহের বলেন, “আমরা তার বক্তব্যের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত। তবে প্রশ্ন হলো, বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হবে? এখানে কার্যকারিতা নিয়েই আমাদের দ্বিমত।”
জামায়াত নেতা আরও দাবি করেন, জনমনে ইতোমধ্যেই নীলনকশা বা পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো এ প্রশ্নকে আরও তীব্র করেছে। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “লন্ডনে একটি দলের সঙ্গে বৈঠক করে সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে—এটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে সরকারের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন উঠেছে এবং স্পষ্ট হয়েছে যে একটি নির্দিষ্ট দলকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশের দিন (৫ আগস্ট) নির্বাচন তারিখ ঘোষণা করা আসলে এক ধরনের চাপের ফল। তাহেরের ভাষায়, “এখানে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে সরকারের ওপর চাপ ছিল। সরকারের উচিত ছিল জুলাই সনদ নিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা। কিন্তু তা না করে তড়িঘড়ি করে তারিখ ঘোষণা করায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।”
তাহের মনে করেন, যদি অন্তর্বর্তী সরকার সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন চায়, তবে এখনই জনগণের আস্থা অর্জনের মতো সাহসী পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই বক্তব্য নির্বাচনের আগে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষত চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অস্থিরতার মধ্যে সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়—সরকার কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।