close

কমেন্ট করুন পয়েন্ট জিতুন!

বরগুনার দুই আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি: শেষ জনসভায় প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি ও মাঠপর্যায়ের চিত্র..

Maishatul Jannah Moume avatar   
Maishatul Jannah Moume
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরগুনার দুইটি সংসদীয় আসন—বরগুনা-১ ও বরগুনা-২—এ নির্বাচনী উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। ..

 প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই শহর, গ্রাম, হাটবাজার ও চরাঞ্চল পর্যন্ত প্রার্থী ও সমর্থকদের ব্যাপক প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মিছিল, গণসংযোগ, পথসভা ও জনসভায় সরব রাজনৈতিক দলগুলো। এর মধ্যেই বরগুনা-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার শেষ নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

 

বরগুনা-১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর শেষ জনসভা-

 

বরগুনা-১ (বরগুনা সদর–আমতলী–তালতলী) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম মোল্লার শেষ নির্বাচনী জনসভা গত সোমবার বিকেলে বরগুনা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়,

 

জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। খণ্ড খণ্ড মিছিল, ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। কলেজ মাঠ ও আশপাশের সড়কে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়। বরগুনা লেক থেকে শুরু করে সদর উপজেলা এবং কলেজ রোড পর্যন্ত প্রায় লক্ষাধিক এর উপরে মানুষের উপস্থিতি ধারণা করা হয়।

 

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুবুল আলম ফারুক মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয়, জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

সভাপতির বক্তব্যে ফারুক মোল্লা বলেন, বরগুনার মানুষ দীর্ঘদিন ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। এই নির্বাচনের মাধ্যমে মানুষ পরিবর্তনের বার্তা দেবে। তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

প্রধান বক্তার বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, বরগুনা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, নদীভাঙন রোধ, যোগাযোগব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানে প্রত্যাশিত উন্নয়ন পায়নি। তিনি নির্বাচিত হলে পরিকল্পিত উন্নয়ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। তার অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে—

 

- পর্যটন খাতে উন্নয়ন 

 

- নদীভাঙন রোধে টেকসই ব্যবস্থা

 

- আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা

 

- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন

 

- তরুণদের কর্মসংস্থান

 

- কৃষক ও জেলেদের অধিকার নিশ্চিতকরণ

 

(প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার কাজ করবার প্রতিশ্রুতি তিনি ব্যক্ত করেন ভোটারদের মাঝে জেলার উন্নয়নের স্বার্থে)

 

এছাড়াও তিনি জনগণের মতামতের ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথাও বলেন,

 

উক্ত সমাবেশে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যানের নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক এবং বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম ফজলুল হক ছগীরের সহধর্মিণী নূর শাহানা হক বলেন, এই নির্বাচন গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষার লড়াই। তিনি প্রতিটি ভোটারের কাছে পৌঁছানোর আহ্বান জানান।

 

জেলা বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি শৃঙ্খলা বজায় রেখে মাঠে থাকার আহ্বান জানান।

 

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান তরুণ ভোটারদের সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

 

সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান শেষ হয়। নেতাকর্মীরা নির্বাচনী প্রচারণার সময় শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত গণসংযোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি ছিল নির্বাচন-পূর্ব শক্তি প্রদর্শনের বড় আয়োজন।

 

 

আমতলীতে পূর্ববর্তী জনসভা- (বরগুনা ১)

 

এর আগে গত রবিবার বিকেলে আমতলী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আমতলী উপজেলা বিএনপি আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় নজরুল ইসলাম মোল্লা বরগুনাকে আধুনিক জেলায় উন্নীত করার অঙ্গীকার করেন। সেখানেও বিভিন্ন এলাকা থেকে সমর্থকদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

 

 

বরগুনার সার্বিক নির্বাচনী চিত্র তুলে ধরা হলো -

 

বরগুনা জেলায় বর্তমানে সংসদীয় আসন সংখ্যা দুইটি—বরগুনা-১ ও বরগুনা-২। আগে তিনটি আসন থাকলেও সীমানা পুনর্বিন্যাসে তা কমানো হয়।

 

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী এ জেলায় মোট ভোটার: ৮,৫১,৭৯০ জন

 

পুরুষ: ৪,২৩,১৯৬

 

নারী: ৪,২৮,৫৭৯

 

হিজড়া: ১৫

 

 

বরগুনা জেলায় ছয়টি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে এই দুইটি আসন গঠিত।

 

রাজনৈতিকভাবে দৃশ্যমান প্রচারণা জোরালো হলেও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারদের মধ্যে প্রকাশ্য তৎপরতা কম!—এমন পর্যবেক্ষণ রয়েছে স্থানীয় বিশ্লেষকদের। তবে নীরব ভোটাররাই ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে,

 

 

বরগুনা-১ আসনের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:

 

বরগুনা সদর, আমতলী ও তালতলী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-১ আসনে মোট ভোটার ৫,১৬,৯৮৬ 

 

পুরুষ: ২,৫৬,৮৯২

 

নারী: ২,৬০,০৮৩

 

হিজড়া: ১১

 

 

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হচ্ছেন -

 

১. মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা — বিএনপি (ধানের শীষ)

২. মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলি উল্লাহ — ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা)

৩. মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন — খেলাফত মজলিস/১১ দলীয় জোট (দেয়াল ঘড়ি)

৪. মো. জামাল হোসেন — জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল)

 

বিশ্লেষকদের মতে, এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে। কিন্তু এই মুহূর্তে ইসলামী আন্দোলন বর্তমান প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঠে দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।

শহরের তরুণ ভোটার এবং স্থানীয় মানুষজন হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটাররা ধানের শীষের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন :

 

নজরুল ইসলাম মোল্লা এর আগে তিনবারের ইউপি চেয়ারম্যান এবং এলাকায় বেশ জনপ্রিয় ও পরিচিত। ২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়েও দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছিলেন তিনি। দলের প্রতি তার অগাধ ভালবাসা এবং মানুষের বিশ্বাস পাশাপাশি দলের সকল নেতাকর্মীর একসঙ্গে জোরালো প্রতিশ্রুতিতে ভোটারদের আস্থা ও অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তিনি ও তার ধানের শীষ এখন বলতে গেলে সর্বস্তরের ছোট বড় তরুণ এবং প্রবিন ভোটারদের মুখে মুখে জনসরাগম। বিশেষ করে তরুণ ভোটার এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট আশা করা যাচ্ছে তাকে ভোটের মাঠে ব্যাপক এগিয়ে নেবে।

 

 

বরগুনা-২ আসনের বিস্তারিত :

 

পাথরঘাটা, বামনা ও বেতাগী উপজেলা নিয়ে গঠিত বরগুনা-২ আসনে মোট ভোটার ৩,৩৪,৮০৪ জন

 

পুরুষ: ১,৬৬,৩০৪

 

নারী: ১,৬৮,৪৯৬

 

হিজড়া: ৪

 

 

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা (মোট ৯ জন)

 

নূরুল ইসলাম মনি — বিএনপি (ধানের শীষ)

 

ডা. সুলতান আহমদ — জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা)

 

মো. মিজানুর রহমান — ইসলামী আন্দোলন (হাতপাখা)

 

আব্দুল লতিফ ফরাজি — জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল)

 

অন্যান্য.....

 

 

নূরুল ইসলাম মনি বিগত তিনবারের সংসদ সদস্য। অতীতে এলাকায় অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও জেলে নিরাপত্তা আইনে ভূমিকার কথা তার সমর্থকরা উল্লেখ করছেন: বিশ্লেষকদের মতে, এ আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে।

 

 

ভোটারদের মনোভাব :

 

বিভিন্ন উপজেলার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সৎ, যোগ্য ও উন্নয়নমুখী প্রার্থী বেছে নিতে আগ্রহী। তরুণ ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ বেশি। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর প্রতিযোগিতামূলক ভোটের পরিবেশ তৈরি হওয়ায় অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। তবে এদিক দিয়ে পাথরঘাটা এবং বামনায় নুরুল ইসলাম মনির বিগত দিনে এমপি থাকা কালীন অবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন এবং ফলপ্রসু কাঠামোর জন্য সেখানকার মানুষ তার প্রতি বেশ আশাবাদী। 

যেমনটা ৯০ দশকের ওই এলাকার উন্নয়নশীল কিছু প্রজেক্ট ঘাটালে দেখা যায় তিনি সেই সময়কার ব্যাপক উন্নয়নের রূপকার। এক কথায় বলা যেতে পারে তার পেছনের শাসনামলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তাকে বর্তমান ভোটের মাঠে ব্যাপক ফলপ্রসু করে তুলেছে,,

গত রবিবার তিনি নিজের মাতৃভূমিতে দাঁড়িয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আগামীর ভাবনা নিয়ে ভোটারদের সাথে আলোচনা করেছেন:

কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি


News Card Generator