বরগুনার গৌরীচন্না এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের চরম অব্যবস্থাপনার বলি হয়েছেন এক দরিদ্র কৃষক। গত কয়েকদিনের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বজ্রপাত থেকে গবাদি পশু রক্ষা করার তাড়নায় নিজের গরু আনতে মাঠে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাঠের মাঝখানে থাকা পল্লী বিদ্যুতের খুঁটির টানার তারটি আগে থেকেই বিদ্যুতায়িত হয়ে ছিল, যা সম্পর্কে কোনো সতর্কতা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। মাঠে পৌঁছানোর পর অসাবধানতাবশত ওই কৃষক তারটির সংস্পর্শে আসামাত্রই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এলাকাবাসী জানান, বিদ্যুতের খুঁটির টানার তারে বিদ্যুৎ প্রবাহ থাকাটা একটি বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি এবং বিদ্যুৎ বিভাগের চরম অবহেলার পরিচয় বহন করে। বর্তমানে নিহত কৃষকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে, যা একটি দরিদ্র পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কেটপ্লেস পণ্যসমূহ (Marketplace)
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পল্লী বিদ্যুতের খুঁটিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে খুঁটির সাথে থাকা টানার তারগুলোতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, এই দুর্ঘটনার জন্য সরাসরি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিস দায়ী, কারণ বারবার অভিযোগ জানানো সত্ত্বেও খুঁটি বা তারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয়দের মতে, ওই এলাকায় অন্তত একাধিক খুঁটির তারে বিদ্যুতায়ন হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিহতের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠা এলাকায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগের এই গাফিলতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা তদন্তের পরিবর্তে অবিলম্বে প্রতিটি খুঁটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করা অপরিহার্য। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে মাঠ পর্যায়ে কোনো তদারকি দল কাজ করছে কিনা, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনিকভাবে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এবং নিয়মিত মেইনটেন্যান্স বা রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম না চলায় গ্রামীণ জনপদে বিদ্যুৎ খুঁটিগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সব তার দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
এই ধরণের ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার গভীর ত্রুটির বহিঃপ্রকাশ। একজন কৃষকের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে যাওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। পরিবহন ও কৃষি প্রধান এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভাগের এমন অবহেলা সাধারণ মানুষের চলাচলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি সময়মতো খুঁটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং তারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হয়, তবে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, যা জননিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে বিবেচিত হবে।