close

ভিডিও দেখুন, পয়েন্ট জিতুন!

বোচাগঞ্জে কোটি টাকার সম্পদ জরুরি ফাইল উদ্ধার: কিন্তু দুই কন্যা সন্তান এখনও উদ্ধার হয়নি..

MD ABDUL MAZID KHAN avatar   
MD ABDUL MAZID KHAN
****

 

 

দিনাজপুর প্রতিনিধি: খাঁন মোঃ আঃ মজিদ

 

বোচাগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযানে কোটি টাকার সম্পদ জরুরি ফাইল উদ্ধার করেছে। ৭ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় কয়েকজন যুবক সর্বপ্রথম উদ্ধারের বিষয়ে কথা বলে ৫ দিন আগে ওই জরুরী ফাইল লাইসুরের নামে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস আসে। দ্বিতীয়ত, বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানের নির্দেশে এসআই প্রদীপকে দিয়ে জরুরি ফাইল উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত আশা আক্তার (পিতা: লাইছুর রহমান) তার দুই কন্যা সন্তান জান্নাতি আক্তার (৬) ও মিম আক্তার (৪)-কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে অবস্থান করছিল। মির্জাপুর থানা ও দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতায় কোটি টাকার সম্পদ জরুরি ফাইলের চার ভাগের তিন ভাগ উদ্ধার করা হয়। বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমানের উদ্যোগে ফাইল উদ্ধার করা হলেও, দুঃখজনকভাবে জান্নাতি আক্তার ও মিম আক্তারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, হাটুভাঙ্গা মমিনপুর ঘটনাস্থলে দফায় দফায় গোপন বৈঠক হয়েছে। দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির দুই এসআইসহ কয়েকজন এদিক-সেদিক করার মাধ্যমে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়েছেন। মির্জাপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে পূর্বের আইনগত বিষয়গুলোও উপস্থাপন করা হয়নি। বোচাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বাদী আব্দুল মজিদ খানকে পরামর্শ দেন, “আপনার স্ত্রী আশা আক্তার একদিকে যেমন অসামাজিক কার্যকলাপ ও সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে এবং আপনাকে ডিভোর্স না করে বিভিন্ন অবৈধ কাজের সাথে জড়িয়ে পড়েছে, আপনার কন্যা সন্তানরা কি শিখবে? আশা করে তাদেরকে বাঁচাতে হলে ওই দুই কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করতে হবে।” সেই সুবাদে সাব-ইন্সপেক্টর শামীম, এসআই আব্দুর রহমান, এসআই কাওসার, এসআই খালেক, কনস্টেবল কাজলী তাদেরকে দিয়ে অভিযানে পাঠানো হয় ০২/০৩/২০২৬ ইংরেজি তারিখে রাত ১২:৪৫ মিনিটে। পরদিন ০৩/০২/২০২৬ ইংরেজি তারিখে মির্জাপুর থানা ও দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির দুই এসআই সহযোগিতায় হাটুভাঙ্গা মমিনপুর ঘটনাস্থলে গেলে, অভিযুক্ত আশা আক্তারের বিরুদ্ধে কোন ওয়ারেন্ট না থাকায় শুধুমাত্র মিসিং ডায়েরি ও কোটি টাকার সম্পদ জরুরি ফাইলের ডায়েরি বিভিন্ন প্রশাসনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তবে দুঃখজনকভাবে তারা গুরুতর অসুস্থ তাই দুই কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বাদী আব্দুল মজিদ খান বলেন, মনগড়া বক্তব্যের মাধ্যমে অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে যে কাজ করা হয়েছে, তা না হলে কন্যা সন্তানদের উদ্ধার করা যেত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত আশা আক্তার একজন আইনবিরোধী, সমাজবিরোধী এবং প্রতারক প্রকৃতির ব্যক্তি। তিনি আবাসিক হোটেল, ছাত্রাবাস, ছাত্র নিবাস, চুক্তিভিত্তিক বিবাহ (রক্ষিতা) এবং একাধিক অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত। আশা আক্তারের সাথে চুক্তি ভিত্তিক বিবাহ হয়েছে। বাদী আঃ মজিদ খানের মামলায় লড়ার কথা বলে প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করছে মোঃ আওয়াল, শাহ আলম শাহিন, বড় দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে:

লাইসুর রহমান (পিতা মৃত মফির উদ্দিন), লিপি আক্তার স্বামী লাইসুর উদ্দিন, বড় দুলাভাই দেলোয়ার হোসেন পিতা মমিনুল ইসলাম ওরফে হামিদুল, বড় বোন রাশিদা আক্তার স্বামী দেলোয়ার হোসেন, ছোট ভাই মোঃ নয়ন মিয়া পিতা লাইছুর রহমান, মোঃ আশরাফুল পিতা আব্দুস সামাদ সহ আরও অনেকের সহযোগিতায় বেছে নিয়েছে অবৈধ কাজ। বর্তমান অবস্থায় অভিযুক্তরা টাঙ্গাইল মির্জাপুর থানা সংলগ্ন গড়াই হাটুভাঙ্গা মমিনপুর এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর কোর্টে নয়টি মামলা এবং ছয়টি সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মালামাল ও কাগজপত্র ১. দশটা স্ট্যাম্পে ১০০ টাকা দামের ত্রিশটা স্ট্যাম্প,২. ওয়ারিশ সনদপত্র, মৃত্যু সনদপত্র ৫টা,৩. জন্ম নিবন্ধন ৫টা,৪. নাগরিক সার্টিফিকেট ৩টা,৫. প্রত্যয়ন পত্র ৮ টা,৬. জন্ম নিবন্ধন আরও ৫টা,৭. নারী শিশু মামলার দুই সেট,৮. সোনালী ব্যাংকের চেক বই ১টা,৯. শিশু কার্ড ২টা ,১০. বাড়ির খারিজ নামা ১ সেট। এখনো অনুদ্ধারকৃত মালামাল ও কাগজপত্র ১. সাড়ে ছয় ভরির সোনা গহনার রশিদ ১১খান জিনিস,২. সাড়ে ১৭ ভরি রুপা অলংকার রশিদ তিনটা আল্লাহু লকেট চেন, চার জোড়া নুপুর,৩. এলইডি টিভির রশিদ,৪. সেলাই মেশিনের রশিদ,৫. রাইস কুকারের রশিদ,৬. ব্যালেন্ডার রশিদ,৭. আয়রন স্ত্রী রশিদ,৮. ৪টা নাকফুলের রশিদ,৯. Realme Note 10 Pro রশিদ,১০. Infinix Hot 20 রশিদ,১১. Samsung Galaxy A12 রশিদ,১২. Samsung Galaxy A13 রশিদ,১৩. Oppo Reno 8 T 5G রশিদ,১৪. তিনটা স্ট্যাম্পের ১০০ টাকা দামের ৯ টা স্ট্যাম্প,১৫. জন্ম নিবন্ধন তিনটা, পাঁচটা ভোটার আইডি কার্ড, দুইটা শিশু কার্ড, একটা নাগরিক সার্টিফিকেট,১৬. ডিভোর্সের কাগজ ৩টা, কোর্ট ম্যারেজ কাগজ তিনটা স্ট্যাম্প ১০০ টাকা দামের ৯ স্ট্যাম্প, বিয়ের কাগজ ৪টা, আপসের তিনটা স্ট্যাম্প ১০০ টাকা দামের ৯ টা স্ট্যাম্প,১৭. বাড়ির খারিজ নামা একটা, বাড়ির দলিল তিনটা,১৮. সবুজ কালারের ১ টা ফাইল,১৯. প্রিমিয়াম ব্যাংকের চেক বই একটা ।বাদী আব্দুল মজিদ খানের তিনটি ফাইলের মধ্যে জানা-অজানা অনেক কিছুই ছিল যা আর্জিতে উল্লেখ করা হয়নি তাড়াহুড়ার কারণে।বাদী এবং স্থানীয় সচেতন মহল আশা করছেন, বোচাগঞ্জ থানার পুলিশ পুরো ঘটনাস্থল সরজমিনে গিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বাকি ফাইল ও দুই কন্যা সন্তান উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।

 

 

Hiçbir yorum bulunamadı


News Card Generator