ধর্ম অবমাননা বা কাউকে নাস্তিক আখ্যা দেওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু-এর এক বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে লিখিত বিবরণ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।
লিখিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি এক বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, “আমরা একটি ধর্মভিত্তিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলাম; ধর্ম দিয়ে যে রাষ্ট্র হয় না তার প্রমাণ পাকিস্তান।” এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়ার এক অনুষ্ঠানে তাকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ প্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু জানতে চান—ইসলামী শরিয়তের আলোকে কাকে নাস্তিক বা ইসলামবিদ্বেষী বলা যায় এবং এ ধরনের মন্তব্য করার বিধান ও শাস্তি কী। পাশাপাশি, উক্ত বক্তব্যের কারণে একজন মন্ত্রীকে নাস্তিক বলা কতটা যৌক্তিক, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
লিখিত বিবরণে আরও বলা হয়, ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে কাফের বা নাস্তিক আখ্যা দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, কোনো মুসলমানকে অন্যায়ভাবে কাফের বলা হলে সেই অভিযোগ উল্টো অভিযোগকারীর ওপর বর্তাতে পারে।
এছাড়া উল্লেখ করা হয়, প্রমাণ ছাড়া কাউকে নাস্তিক বা ধর্মবিরোধী বলা সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর অপরাধ। ইসলামী বিধান অনুযায়ী এটি অপবাদ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় আইনেও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিবরণে বলা হয়, এ ধরনের অভিযোগ ব্যক্তি ও সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের আশঙ্কা থাকে। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আলেম-ওলামা ও দায়িত্বশীল মহলের মাধ্যমে স্পষ্ট করা জরুরি।
বিএনপি নেতা সাইদুর রহমান বাচ্চু তার স্বাক্ষরিত এই লিখিত বিবরণে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।



















