close

ভিডিও আপলোড করুন পয়েন্ট জিতুন!

বাংলাদেশের অর্থনীতির নবজাগরণ, ফেসবুকের হাত ধরে ১০ লক্ষাধিক কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বিপ্লব..

আব্দুল্লাহ আল মামুন avatar   
আব্দুল্লাহ আল মামুন
পুঁজি কম কিন্তু মেধা ও শ্রম আছে—এমন হাজারো তরুণের জন্য ফেসবুক আজ বেকারত্বের অভিশাপ মোচনের নামান্তর।..

এক সময় যা ছিল শুধুই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার ভার্চুয়াল মাধ্যম, আজ তা বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে মেটা-র মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম 'ফেসবুক' এখন আর কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয়; এটি বর্তমানে দেশের লাখো তরুণের স্বপ্নপূরণ, বেকারত্ব মোচন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (SME) ডিজিটাল মেরুদণ্ড হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক গবেষণা ও বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ফেসবুককে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের এক বিস্ময়কর অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার চিত্র।

প্রথাগত চাকরির বাজারের সীমাবদ্ধতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাংলাদেশের তরুণরা ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থান নিজেরাই তৈরি করছেন। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (e-CAB) এবং বিভিন্ন বাজার বিশ্লেষণের তথ্যমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫ লাখেরও বেশি সক্রিয় ফেসবুক বিজনেস পেজ রয়েছে । এর মধ্যে প্রায় ২.৫ লক্ষ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা বা 'এফ-কমার্স' ব্যবসায়ী সরাসরি ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করছেন ।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক তথ্য হলো, এই ২.৫ লক্ষ উদ্যোক্তা একা নন; তাদের পণ্য সোর্সিং, প্যাকেজিং এবং ডেলিভারির জন্য গড়ে উঠেছে বিশাল এক সাপ্লাই চেইন। লজিস্টিক ও কুরিয়ার খাতের তথ্য অনুযায়ী, এই ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান বা 'ইনফর্মাল জব' তৈরি হয়েছে । পুঁজি কম কিন্তু মেধা ও শ্রম আছে—এমন হাজারো তরুণের জন্য ফেসবুক আজ বেকারত্বের অভিশাপ মোচনের নামান্তর।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ফেসবুকের সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্ভবত নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি। সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং পারিবারিক দায়িত্বের কারণে যেসব নারীরা ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারতেন না, ফেসবুক তাদের হাতে তুলে দিয়েছে স্বাবলম্বী হওয়ার চাবি। গবেষণায় দেখা গেছে, এফ-কমার্স খাতের প্রায় ৫০ শতাংশ ব্যবসাই পরিচালনা করছেন নারী উদ্যোক্তারা ।

মেটা-র '#SheMeansBusiness' এবং 'Boost with Facebook'-এর মতো উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখছে। লাইটক্যাসল পার্টনার্স এবং মেটা-র যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে হাজারো নারী এখন গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডের ব্যবসা পরিচালনা করতে শিখছেন। এটি কেবল তাদের আয় বৃদ্ধি করেনি, বরং সমাজে তাদের অবস্থান ও আত্মবিশ্বাসকে সুদৃঢ় করেছে।

ফেসবুক গ্রুপ এবং রিসেলিং মডেলের কারণে এখন ছাত্রদের জন্য পড়ালেখার পাশাপাশি আয় করা সহজ হয়েছে। 'শপআপ' (ShopUp) বা বিভিন্ন পাইকারি গ্রুপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কোনো পণ্য মজুদ না করেই (Zero Inventory Model) শুধুমাত্র পণ্যের ছবি শেয়ার করে এবং অর্ডার নিয়ে কমিশন ভিত্তিক আয় করতে পারছেন । এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মনির্ভরশীলতা তৈরি করছে এবং তাদের ওপর থেকে বেকারত্বের মানসিক চাপ কমাচ্ছে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বা মেটা বাংলাদেশের বাজারের সম্ভাবনা অনুধাবন করে প্রতিনিয়ত তাদের সহায়তা বৃদ্ধি করছে। সম্প্রতি মেটা এবং লাইটক্যাসল পার্টনার্স যৌথভাবে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেন ফেসবুকের এআই টুলস ব্যবহার করে তাদের মার্কেটিং আরও নিখুঁত করতে পারেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারেন।

এছাড়া, রক্তদান কর্মসূচি বা 'ব্লাডম্যান' (Bloodman) উদ্যোগের মাধ্যমে ফেসবুক দেখিয়েছে কীভাবে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে এবং সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ একটি কমিউনিটি গড়ে তুলতে পারে।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশ যে তার প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখতে পেরেছে, তার পেছনে এই ডিজিটাল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অবদান অনস্বীকার্য। ফেসবুক এখানে কেবল একটি অ্যাপ নয়, এটি একটি 'ভার্চুয়াল সিলিকন ভ্যালি'—যা প্রতিদিন হাজারো স্বপ্নের জন্ম দিচ্ছে। সরকারের 'স্মার্ট বাংলাদেশ' ভিশন বাস্তবায়নে এবং বেকারমুক্ত সমাজ গঠনে ফেসবুকের এই ইকোসিস্টেম নিঃসন্দেহে এক অকৃত্রিম বন্ধু ও অংশীদার হিসেবে কাজ করে চলেছে।

نظری یافت نشد


News Card Generator