ঢাকা, ১৮ এপ্রিল ২০২৫
বাংলাদেশে বিগত আট মাস ধরে চলা দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, ভূমি ও ফুটপাত দখল, অবৈধ অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে রাষ্ট্র। সরকারি একাধিক উচ্চপর্যায়ের সূত্র নিশ্চিত করেছে, এসব অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে চলে গেছে। এখন অপেক্ষা কেবল চূড়ান্ত অভিযানের।
বিশেষ করে, গত ১৬ বছরের শাসনকালীন সময়ে গড়ে ওঠা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী, যারা ক্ষমতার ছত্রছায়ায় টাকার বিনিময়ে প্রতিপক্ষের কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর মতো অনিয়মে লিপ্ত হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, আজ থেকে দেশের প্রতিটি অপরাধী নজরদারির আওতায়। কে কোন এলাকার, কোন গোষ্ঠীর, কিংবা কত বড় প্রভাবশালী—এসব কোনো বিষয়েই রেয়াত থাকবে না। অপরাধের প্রমাণ মিললেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। অভিযান চলবে রাতের অন্ধকারে হোক কিংবা দিনের আলোয়।
গত আট মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজারে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, ভূমি ও ফুটপাত দখলের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়েছে। সাধারণ জনগণের ভোগান্তি চরমে পৌঁছালে রাষ্ট্রের শীর্ষ মহল এই অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নজিরবিহীন হতে পারে, যেখানে অপরাধী যত বড় শক্তিধরই হোক না কেন, কোনো প্রকার প্রভাব খাটিয়ে রেহাই পাবে না।
সরকারের কঠোর বার্তা:
রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—যারা দেশের সম্পদ লুটপাট করেছে, ঘাম ঝরা জনগণের উপার্জনকে মুঠোভরে ছিনিয়ে নিয়েছে এবং ক্ষমতার দাপটে নিরীহ মানুষকে শোষণ করেছে, তাদের জন্য আর কোনো রেহাই নেই। অপরাধীদের যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখান থেকেই তুলে এনে আইনের আওতায় আনা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ইতোমধ্যে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া হবে কঠোর এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
নতুন ধাপের অভিযান:
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন ধাপের অভিযান যেকোনো মুহূর্তে শুরু হবে। যারা এখনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের জন্য এটিই শেষ সুযোগ। নিজেদের সংশোধন না করলে, অদূর ভবিষ্যতেই কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
জাতির স্বার্থে, দেশের মর্যাদায়, এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালিত হবে। কেউ রেহাই পাবে না। সাধু সাবধান—খেলা শুরু হয়ে গেছে।